নওয়াজ শরিফের উপলব্ধি || প্রায়শ্চিত্ত করার সময়ও বহে যায়

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৮, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

সত্য চাপা থাকে নাÑ এই সত্য বারবারই আমাদের জীবনে প্রমাণিত হয়। কপট-ষড়যন্ত্রীদের কারণে সত্য কিছু সময়ের জন্য চাপা রাখা যায় বটে কিন্তু সব সময়ের জন্য সম্ভব হয় না। কেননা ঘটনার পরিণতিই হল সত্যের মুখোমুখি হওয়া। ১৯৭১ সালে কিংবা তারও আগে বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের লড়াই যে ন্যায্য ছিল এবং সেই অধিকারের লড়াইয়ে বাঙালি জাতিকে বিরল শোষণ-বঞ্চনা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণহত্যার শিকার হতে হয়েছিল তা আজ ঘাতকপক্ষই স্বীকার করে নিচ্ছে, হোক না তা ৪৭ বছর পর। এখানেই সত্যের অবশ্যম্ভাবিতা, সত্যের জয়। মিথ্যাটা অপসৃত হয় এ ভাবেই। এ জন্যই বলেÑ‘ইতিহাস থেকে শিক্ষা নাও।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ আবারো স্বীকার করলেন যে, ‘পাকিস্তান সৃষ্টিতে বাঙালিদের একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করিনি এবং আমাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন একটি সততাপূর্ণ ও স্পষ্ট পর্যালোচনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আমরা তা পড়েই দেখিনি।’ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি বলেছেন, বছরের পর বছর ‘নিপীড়ন’ করে তাকে ‘বিদ্রোহের দিকে’ ঠেলে দেয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, রাষ্ট্র কর্তৃক তাকে ‘একঘরে’ করে ফেলা আর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পটভূমির মিল রয়েছে এবং বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করেছেন তারাই।
মঙ্গলবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে। পরবর্তীতে এ খবর দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যওেম প্রকাশিত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তিন বার উৎখাত হওয়া নওয়াজ এর আগেও ১৯৭১ সালকে ঠেনে এনেছিলেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়ে নওয়াজ এই রাজনৈতিক কর্মকা-ের নেপথ্যে জড়িতদের তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা ও জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের এক শীর্ষ কবির বিখ্যাত উক্তিটি স্মর্তব্য, ‘পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অন্য দেশ দখল করতে না পারলেও তারা নিজ দেশকে বার বার দখল করে।’ এই দখলদারিত্বই পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কিংবা মানবিক ধারার রাজনীতিতে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জনের প্রধান বাধা। সেখানে বন্দুকবাজ উগ্র জঙ্গিদেরই বাড়-বাড়ন্ত। পাকিস্তানের সেনাবাহিনির প্রচ্ছন্ন আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পাকিস্তান একটি অকার্যকর ধর্মান্ধদের দেশ। তারা নিজ দেশের মাটি খুবলে খায় এবং নিজ দেশের মানুষদের হত্যা করে। জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সত্যোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানে যে নেতারা ষড়যন্ত্রের পার্ট হয়েছে তারাই অপমানিত ও নিগৃহীত হয়েছে কিংবা জীবনের বিনিময়ে প্রায়শ্চিত্ত করেছে। এটাই পাকিস্তানের জন্য নির্মম কঠিন বাস্তবতা।
আর যারা বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখে, তাদের বোধোয় খুবই জরুরি। নওয়াজ শরিফই পাকিস্তান ভাগ হওয়ার সবিশেষ ক্ষেত্র উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান যে বর্বর জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের শাসনে চলে, শঠতা, কুপম-কতা, হীনতা, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রই সেখানের রাজনীতির মূল দর্শনÑ সে দেশে মানবিক আচরণ প্রত্যাশা দুরাশাই মাত্র। নওয়াজ শরিফের বোধের মধ্যেই পাকিস্তানের মুক্তির পথ নিহিত আছে। পাকিস্তানকে অবশ্যই প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এটা ইতিহাসের অমোঘ নিয়মÑ যা পাকিস্তান কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে পারে না। আর যতদিন তা হবে না ততই পাকিস্তানের মানচিত্র বিকৃত হবে, বিচ্ছিন্ন হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ