নগরপিতা হোক আস্থার বাঁধন

আপডেট: জুন ৭, ২০১৮, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

শুভ্রারানী চন্দ


নগরবাসীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা, তাদের ভাল-মন্দের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা, বিপদে-আপদে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে সহযোগিতা করা, মানুষের ভরসাস্থল ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠা একজন নগরপিতার অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। অহংকার বা আমি আমি ভাব ত্যাগ করে তাকে সাধারণ মানুষের কাতারে এসে দাঁড়াতে হবে।
এক শহর বা দেশের সার্বিক কল্যাণ নির্ভর করে অনেকটাই সেখানকার মানুষের সম্পৃক্ততার উপর। সে মানুষদের ভেতরে থাকে নানা শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষ। প্রত্যেকেই যদি তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে তাহলে সেখানে সেখানকার সার্বিক উন্নয়ন সহজেই দৃশ্যমান হয় এবং মানব কল্যাণকে ত্বরান্বিত করে। প্রকৃতিগতভাবে সব মানুষ সমান হয় না, তাদের শিক্ষা-দীক্ষা, আচার-আচরণ, দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে। কিন্তু এটাও সত্যি যে সমাজে বেশিরভাগ মানুষ দায়িত্বশীল- বিশেষ করে যিনি সকলের অভিভাবক তিনি দায়িত্বশীল হলে অন্যেরা তাঁকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়। তাদের ভেতরে কোনো দায়িত্বহীনতা, কর্তব্যপালনে শৈথিল্য কিংবা আলসেমি থাকলে, দেশপ্রেমের কমতি হলে তারা অনুকরণ করবে তাদের যারা সদা প্রস্তুত দায়িত্ব পালনের জন্য।
নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া, একা নির্দিষ্ট সময় পরে দেশে নানা পর্যায়ের নির্বাচন পরিচালিত ও অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জনগণকে নিয়ে তাদের সম্পৃক্ত করেই অনুিষ্ঠত হয় নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের ভেতরে চলে নানা আয়োজন, আলোচনা-পর্যলোচনা। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া থাকে এমন ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হোক যারা জনকল্যাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, যার চিন্তা- চেতনা জনগণ তথা দেশের কল্যাণ কামনায় নিয়োজিত, যিনি নিঃস্বার্থ, যিনি মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করেন না, যিনি সব ক্ষুদ্রতা ও নীচতাকে অতিক্রম করতে জানেন, বিপদে-আপদে যিনি বন্ধুর মতো পাশে থাকেনÑ আনন্দেও যিনি সমান অংশীদার, যিনি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারাবদ্ধ, যিনি মিশুক, যিনি সদালাপি, যার ভেতর ও বাইরে ব্যবধান নেইÑ এমন সৎ ও সদাচারী ব্যক্তিকেই মানুষ নির্বাচিত করতে চায়। আমাদের সমাজে এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের ভেতর ও বাইরে বিস্তর ব্যবধান, যাদের জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতি ফাঁকাবুলি, যারা স্বার্থপর, নিজের আখের গোছাতে যারা ব্যস্ত- মানুষ তাদের পছন্দ করে না। চক্ষু লজ্জার খাতিরে সামনাসামনি কিছু বলে না। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের কাছে যারা নতি স্বীকার করে তারা কখনো গণমানুষের উপকারে লাগে না। যে মানুষ দেশের কল্যাণকে, মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয় এবং এগুলোকে নিজের কল্যাণ বলে বিবেচিত করে সেই মানুষই মানুষের কাছে গ্রহণীয়।
যিনি দেশের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, খাদ্যসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে চিহ্নিত করে নাগরিকদের প্রয়োজন ও সময়ানুযায়ী এগুলো নিশ্চিতকরণে মনোযোগী হবেন এক বাক্যে জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করতে চাইবেন। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ও অনেকাংশে ম্লান হয়ে যেতে পারে। দলীয় আনুগত্য থাকাটা স্বাভাবিক কিন্তু যিনি বা যাঁরা জনকল্যাণের চেয়ে দলীয় পরিচয় বা আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেন যেখানে জনকল্যাণ গৌণ হয়ে যায়। জনকল্যাণকে বাস দিয়ে জনসেবা হতে পারে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি মূলতঃ জনগণের দ্বারা জনস্বার্থ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন- এটাই স্বাভাবিক। তার ব্যত্যয় ঘটলে জনকল্যাণ যেমন শিকেয় উঠবে জনপ্রতিনিধির গ্রহণযোগ্যতাও শূন্যের কোঠায় গিয়ে ঠেকবে।
একজন সচ্চরিত্রবান বা সজ্জন ব্যক্তিই জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। সর্বত্রই তার গ্রহণযোগ্যতা অবারিত। অন্যথায় তিনি পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
একজন শিক্ষিত ব্যক্তিই শিক্ষার মর্ম বোঝেন। সুতরাং, নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি শিক্ষিত হন- তাহলে তিনি শিক্ষার মান উন্নয়ন তথা শিক্ষার বিস্তারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তিনি অবশ্যই কর্মঠ হবেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাই একদিন বিশ্বে রোল মডেল হবে। সর্বোপরি একজন জনপ্রতিনিধি পক্ষপাতহীন হবেন। তিনি পক্ষপাতদুষ্ট হলে জনগণের আস্থা হারাবেন এবং জনআস্থা হারানো ব্যক্তি কখনো সুস্থভাবে কাজ করতে পারবেন না। সুতরাং, জনগণের আস্থা অর্জন ও তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধির অন্যতম প্রধান গুন।
সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আমরা চাই আমাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হোক একজন যোগ্য নগরপিতা নির্বাচনের মাধ্যমে। তিনি হোন আমাদের ভরসা ও আস্থার পাত্র। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে রাজশাহীবাসী যেন একটি আধুনিক ও উন্নত নগরী পায়। শিল্পের বিস্তার হয়। শিক্ষানগরী রাজশাহী তার শিক্ষাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে পারে, রাজশাহীবাসী গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে যেন রাজশাহীর গৌরব গাঁথা মানুষের কাছে তুলে ধরতে এমন একজন নগরপিতা নির্বাচিত হোক যিনি সকলের কাছে পরিচিত হোন- ‘আমি তোমাদেরই লোক।’