বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নগরীতে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে গরু-বাছুর লুট || তিন সপ্তাহে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড

আপডেট: December 6, 2019, 1:11 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


খামার মালিক আব্দুল মজিদের পরিবারের আহাজারি। (ইনসেটে) আব্দুল মজিদ-সোনার দেশ

নগরীতে গত বুধবার গভীর রাতে এক খামার মালিককে হত্যা করে চারটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো রাজশাহীতে।
নিহত আব্দুল মজিদ (৫৫) দাশপুকুর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। সিটি বাইপাস সড়কের পাশে খাস জমিতে আব্দুল মজিদ ছোট একটি খামার গড়ে তুলে গরু লালন-পালন করছিলেন। সেখানে দুইটি গাভী ও দুটি বাছুর ছিলো। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে আব্দুস সালাম দুপুরে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ এ ঘটনায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
রাজপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, বাড়ির পাশের একটি খাস জমিতে ছোট একটি খামার করে সেখানে স্ত্রীসহ আব্দুল মজিদ গরু পাহারা দিতেন। তবে গত রাতে তার স্ত্রী সাথে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা খামারে গিয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের মাঝে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি বলেন, বুধবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে খামার থেকে চারটি গরু নিয়ে যায়। এর মধ্যে ২টি গাভী ও ২টি বাছুর ছিলো। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা সনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুত এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নভেম্বরের শেষ ১৭ দিনে চারটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে নগরীতে। চলতি মাসের পাঁচ দিনের মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই পাঁচ হত্যাকাণ্ডের মধ্যে চারটি রাজশাহী মহানগরে এবং একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে গোদাগাড়ীতে। নিহতদের মধ্যে দুজন কলেজছাত্র, একজন যুবলীগ কর্মী ও দুইজন ব্যবসায়ী।
এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর দুপুরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সামনে হত্যা করা হয় যুবলীগ কর্মী সানোয়ার হোসেন রাসেলকে (৩০)। এ ঘটনায় তার ভাই রাজাও আহত হন। একইদিন মহানগরীর পবা নতুনপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে আবদুল্লাহ আল ফাহিম (১৮) নামের কলেজছাত্র নিহত হন। ২১ নভেম্বর বিকালে গোদাগাড়ীর কদম শহরে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শান্ত ইসলাম (২০) নামের আরেক কলেজছাত্র নিহত হন। আহত হন তার ভাই স্বপন ইসলাম। ৩০ নভেম্বর নগরীর মালদা কলোনিতে রাজন শেখ (২৮) নামে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার মূলহোতা সোহেল ও আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।এদিকে নগরীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় প্রকাশ্যে মুদি দোকানিকে হত্যার ঘটনায় দুই আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শুনানি শেষে আসামি সোহেল ও তার চাচা আব্দুর রহিমের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চলতি মাসের ১ ডিসেম্বর ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ব্যবসায়ী রাজন হত্যার দুই আসামি সোহেল ও রহিমকে গ্রেফতারের পর আদালতে প্রেরণ করে চার দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দুই আসামির ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোতে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো গুরুত্বসহ দেখা হচ্ছে। নগরীর চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু আলোচিত রাসেল হত্যাকাণ্ডের আসামিরা পলাতক আছে। এ ছাড়াও সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের শিকার আব্দুল মজিদের খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, রাজশাহী নগরীতে যে চারটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তার মধ্যে শুধুমাত্র যুবলীগ কর্মী রাসেল হত্যাকাণ্ডই আলোচিত হত্যাকাণ্ড। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অন্য হত্যাকাণ্ড নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি বা প্রেমের সম্পর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। তারপরও পুলিশ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তদন্ত করছে। তার মানে রাজশাহীতে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে এমন বলার সুযোগ নেই।