নগরীতে এডিস মশার লার্ভা প্রয়োজন এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৯, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশে ডেঙ্গু এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম। ক্ষুদ্র এক অমেরুদ-ী প্রাণীর দৌর্দ- প্রতাপ মানুষের বিরুদ্ধে। মানুষের আতঙ্ক- উদ্বেগাকুল অবস্থানই পরিস্থিতিকে বাস্তবিক পরিস্থিতির চেয়েও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমূহের উদাসীনতাকে মূলত দায়ী করা হচ্ছে। তারপরেও রয়েছে নাগরিক সমাজের অসচেতনতা। দুর্বলতার এই ফাঁকফোকর দিয়েই এডিস মশা সারা দেশে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে হাজির হয়েছে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না- যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমূহ পূর্ব থেকেই এডিস মশার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেন। পরিস্থিতি যখন নাগালের বাইরে যেতে চাচ্ছে তখন একে অপরকে দোষারোপের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। প্রথম দিকে তো ডেঙ্গু বিষয়টিকে পাত্তাই দেয়া হয় নি। কিন্তু ডেঙ্গু রোগের ক্রমশ বিস্তার, প্রাণহাণির ঘটনায় রাজধানী ঢাকার দুই মেয়রকে খুবই অসহায় মনে হয়েছে।
ডেঙ্গু ভয় এখন আর রাজধানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়Ñ সারা দেশে তা ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাই পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমে তথ্য ছিল, রাজধানীর বাইরে দেশের বাকি জেলাগুলিতে যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তারা কোনো উদ্দেশ্যে ঢাকায় গিয়েই ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন সেই অবস্থানে নেই। এডিস মশা এখন দেশের অন্যান্য জেলাতেও তাদের অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছে শুধু নয়Ñ এডিস মশার দংশনে মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্তও হচ্ছে। এই পরিস্থিতি জনভীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
নাগরিক সমাজের অসচেতন মাত্রার কোনো হেরফের হয়নি। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পানি কোনো উৎসেই জমতে না দেয়াÑ এ প্রচারণার ব্যাপকতা না থাকলে সেটা ছিল কিন্তু সচেতনতার লক্ষণ মোটেও পরিদৃষ্ট হয় নি। অর্থাৎ যারা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ তারাও উদাসীন, ব্যক্তি- পরিবারের সদস্যরাও উদাসীন। এডিস মশার বিষয়টিকে মোটেও গুরুত্বে নেয়া হয় নি। যদিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে শুধু এডিস মশার বিস্তাররোধই একমাত্র কারণ নয়।
যে হাসপাতালে অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়- সেখানেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে এডিস মশা বংশবিস্তার করে চলেছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের বাস ভবন, কলেজের ফাল্গুনী ছাত্রীনিবাসে ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিত্যক্ত বেসিনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
তথ্যমতে রাজশাহীর স্বাস্থ্য বিভাগ গঠিত তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে। ওই টিম জুলাইয়ের ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের ১০০টি স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে। তার মধ্যে ১৪ টি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে এডিস মশার অস্তিত্ব নিয়ে এতাদিন প্রশ্ন ছিল কিন্তু কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের এ তথ্য এডিস মশার অস্বিত্ব থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করলো। এখন অপেক্ষা এই এডিস মশার লার্ভা কত দ্রুত সম্ভব ধ্বংস করা যায় এবং নগরীর আর কোনো পয়েন্টে এডিস মশার লার্ভার অস্বিত্ব আছে কি না সেই নিরীক্ষা কার্যক্রমটি অব্যাহত রাখার সময় এসেছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। সরকারি বেসরকারি সংস্থার অফিস চত্বরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে তৎপরতাও লক্ষ্যনীয়। এই সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বাড়ি বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আর বাড়িতে যারা বসবাস করেন তাদেরই এ উদ্যোগ নিতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এডিস মশার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে নিজেরা সচেতন-সক্ষম হলেই সমস্যার সমাধান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ