নগরীতে তাবলীগ ইজতেমার প্রস্তুতি

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

_DSC6640

নিজস্ব প্রতিবেদক
নগরীতে চলছে তাবলীগ জামায়াত রাজশাহী জেলা ইজতেমার প্রস্তুতি। আগামি বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর হজরত শাহমখদুম ঈদগাহ ময়দানে শুরু হবে তিন দিনব্যাপি এ ইজতেমা। ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে দেশ-বিদেশের তাবলীগ জামাতের প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি। এই ইজতেমার জন্যই ময়দান প্রস্তুতের কাজ চলছে পুরোদমে। দিনরাত সেখানে কাজ করছেন নগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও জামায়াতের জিম্মাদাররা। জেলা ইজতেমাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। নিñিদ্র নিরাপত্তার জন্য ইজতেমার ময়দানে স্থাপন করা হচ্ছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সরজমিনে নগরীর হজরত শাহমখদুম ঈদগাহ ময়দানে গিয়ে দেখা গেল, ঈদগাহ ময়দানজুড়ে সারিসারি পোঁতা হয়েছে বাঁশ। বাঁশের ওপরে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্যান্ডেলের ফ্রেম। সেখানে চট দিয়ে তৈরি হচ্ছে মুসল্লিদের বসার জন্য প্যান্ডেল। ময়দানের চারপাশে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মুসল্লিদের জন্য রান্নার জায়গা। আর ময়দানের দক্ষিণ পাশে পদ্মার পাড়ে মুসল্লিদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে অজুখানা, টয়লেট ও গোসলের ব্যবস্থার। এছাড়াও ময়দানের পূর্বদিকের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের জন্য স্থান। প্রায় সবকাজই শেষের দিকে। সব মিলিয়ে ইজতেমার কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।
ময়দানের সকল কাজ দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ হজ্জ প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম সোনার দেশকে বলেন, আগামি বৃহস্পতিবার জোহর থেকে শুরু হবে জেলা ইজতেমার মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই ইতিমধ্যেই ময়দানে ইজতেমার আয়োজনের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। ১৯ তারিখের আগেই আমাদের সকল কাজ শেষ হয়ে যাবে।
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যাতে কোন ধরনের সমস্যা না হয় সেই দিক বিবেচনা করেই ময়দানের দক্ষিণ পাশে পদ্মার পাড়ে অজু, গোসল আর টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়দানের চারপাশে রান্নার ব্যবস্থাসহ ময়দানজুড়ের বিভিন্ন স্থানে রাখা হচ্ছে খাবার পানির ব্যবস্থা।
ময়দানের কাজে নিয়েজিত বেঙ্গল ডেকোরেটরের মালিক রফিকুল ইসলাম সোনার দেশকে বলেন, ময়দানজুড়ে প্যান্ডেল তৈরির কাজ আর দু’এক দিনের মধ্যেই সম্পূন্ন হয়ে যাবে। এরপর শুরু হবে আলোকসজ্জার কাজ। আর ময়দানের পশ্চিম দিকে মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণ করা হবে বয়ান মঞ্চ।
রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, তাবলীগ জামাতের কর্মী, বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্খী ও প্রশিক্ষকসহ সবমিলিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন সারাদিন-রাত ধরে এ ময়দানে কাজ করছে।
ময়দানের সার্বিক কাজ দেখাশুনার কাজে নিয়োজিত আবদুল আওয়াল বলেন, এ ময়দানের প্যান্ডেলে রাত্রিযাপন করবেন প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি। আর ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবে প্রায় এক লক্ষ মুসল্লি। তবে আখেরি মোনাজাতে লক্ষাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করবে বলে মনে করেন তিনি।
এই ইজতেমায় কারা কারা বয়ান দিবেন তাদের নাম এখনো নির্দিষ্ট করে জানাতে না পারলেও এটা জানান যে ঢাকার কাকরাইল থেকে মুরব্বীরা এখানে বয়ান রাখবেন। বিদেশিদের মধ্যে থেকে কেউ বয়ান না দিলেও বিদেশ থেকে আগত জামায়াতের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। ইতিমধ্যেই একটি বিদেশি জামায়াত এ ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য রাজশাহীর নওহাটায় এসে অবস্থান করছে। আর এ ইজতেমা সফল করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ৯০ থেকে ১০০ টি জামায়াত সমগ্র জেলায় কাজ করছে।
এদিকে নগরীতে তাবলীগ জামাতের জেলা ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার তাবলীগ জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা করেছে। তাদেরকে ইজতেমার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বেশকিছু নির্দেশনা প্রদানের পাশাপশি প্রদান করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস।
এ ইজতেমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। ময়দানে স্থাপন করা হবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। ইজতেমার ময়দানসহ আসেপাশের এলাকাজুড়ে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি প্রস্তুত থাকবে বিজিবি সদস্যরা। ইজতেমার প্রবেশ পথগুলোতে থাকবে একাধিক চেকপোস্ট। তল্লাসির জন্য ব্যবহার করা হবে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর মেশিন। আর ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রেনে বিভিন্ন পয়েন্টে থাকবে অতিরিক্ত ট্রাফিক ফোর্স।
ময়দানের প্যান্ডেলের জিম্মাদার হাজী কাসেম আলী জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরে দেশের ৩২ জেলা অংশগ্রহন করে থাকে। তাই পর্যায়ক্রমে বছর ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২টি করে জেলা অংশ নেয়। এবারে যেহেতু টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় রাজশাহী জেলার অংশগ্রহণ করার সুযোগ নাই, সেহেতু কাকরাইলের ফাইসালা অনুযায়ী রাজশাহীতে আঞ্চলিক ইজতেমা হচ্ছে।
তাবলীগ জামায়াতের রাজশাহী জেলা ইজতেমার নিরাপত্তার বিষয়ে নগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম সোনার দেশকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার তাবলীগ জামাতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ইজতেমার নিরাপত্তায় পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি ইজতেমার ময়দানসহ আশেপাশের এলাকাজুড়ে সাদা পোশাকে  দায়িত্ব পালন করবে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি প্রস্তুত থাকবে বিজিবি সদস্যরা। এছাড়াও নিñিদ্র নিরাপত্তার জন্য ইজতেমা প্রাঙ্গনে স্থাপন করা হবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। সেখানে থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে। ইজতেমার প্রবেশ পথগুলোতে স্থাপন করা হবে একাধিক চেকপোস্ট। তল্লাসির জন্য ব্যবহার করা হবে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর মেশিন। যানজট নিয়ন্ত্রনে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান ইফতে খায়ের আলম।