নগরীতে নিম্নআয়ের ব্যক্তিরা পাচ্ছেন ১০ টাকা কেজির চাল

আপডেট: April 6, 2020, 2:11 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার নিম্নআয়ের ব্যক্তিদের জন্য রাজশাহী নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডসহ ৩২টি পয়েন্টে ওএমএস এর মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। সেইসাথে এসব পয়েন্টে আটাও বিক্রি করা হচ্ছে ১৮ টাকা কেজি দরে।
রোববার (৫এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে নগরীর ৩২টি পয়েন্টে একযোগে এ চাল বিক্রি শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) হামিদুল হক জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকার নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নগরীর ৩২টি পয়েন্টে রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে তিনদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত চাল বিক্রি করা হবে।
জেলা প্রশাসক হামিদুল হক আরো জানান, জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে মাসে একজন ব্যক্তি ২০ কেজি চাল কিনতে পারবেন। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষজন ভোক্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন। চাল কেনার সময় প্রত্যেককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল কেনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে, রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে চাল কিনতে দেখা গেছে। এই পয়েন্টগুলো হচ্ছে, নগরীর বর্ণালী মোড়, শিরোইল কলোনী, বিসিক মোড়, পঞ্চবটি, সপুরা (ছয়ঘাটি), মোল্লাপাড়া লিলি সিনেমা হল, রাণীনগর বোর্ডপাড়া, তেরখাদিয়া মোড়, উপশহর ৩ নম্বর সেক্টর, তালাইমারি মোড়, লক্ষিপুর, পূর্ব ভাটাপাড়া, পুরতন সিটি ভবন, ছোটবনগ্রাম, আলুপট্টি মোড়, শিরোইল স্টেশন বাজার, দাসপুকুর বৌ বাজার, মহিষবাথান কারিতাস মোড়, নগরপাড়া মোড়, লক্ষিপুর কাঁচাবাজার, টিকাপাড়া গোরস্থানের পশ্চিম পাশে, তেরখাদিয়া স্টেডিয়াম মোড়, কাজলা গেট বাজার, সাধুর মোড়, হড়গ্রাম বাজার, নওদাপাড়া বাজার, ধরমপুর বাজার, সিএন্ডবি মোড়, চৌদ্দপাই গ্রাম, বিনোদপুর বাজার, কাশিয়াডাঙ্গা মোড়, হেতেমখাঁ মেথর পাড়া, ভদ্রা মোড় বাজার। নগরীর টিকাপাড়া এলাকায় চাল ক্রয় করতে আসা রিকশাচালক মতিউর রহমান জানান, এই দুর্যোগের সময় সরকারের এধরণের উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আশাকরি অল্প টাকায় চাল ক্রয় করে সংসার চালতে সমস্যা হবে না। তবে এই বিপাদ থেকে আমরা উদ্ধার হতে চায়।
রাজশাহী জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হক ভুইয়া জানান, নগরীতে চাল বিক্রির জন্য প্রত্যেকটি পয়েন্টে খাদ্য বিভাগের তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতেই ডিলাররা সাধারণ মানুষের মাঝে চাল বিক্রি করছেন। সুষ্ঠুভাবে চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে সতর্ক রয়েছে খাদ্য বিভাগ। এছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চাল বিক্রির পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করছেন।
অন্যদিকে, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির উদ্বোধন করেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন। এসময় তিনি সংবাদিকদের বলেন, নিরাপদ দূরত্বের কথা বলা হলেও তারা শুনছেন না। এক্ষেত্রে যেসকল ডিলার ওএমএস এর জিনিসপত্র বিক্রি করছেন সেখানে কমপক্ষে দুজন পুলিশ সদস্য দেয়া দরকার। তাহলে অনন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে।