নগরীতে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই

আপডেট: মে ১৭, ২০১৮, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


নোংরা ও স্যাতসাতে ঘরে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই-সোনার দেশ

নগরীতে নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন পদের সেমাই। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নগরীর বিসিক এলাকার কারখানাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤্নমানের সেমাই তৈরির হিড়িক পড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকির চিন্তা না করেই তৈরি করছে বিভিন্ন পদের সেমাই।
গতকাল মঙ্গলবার বিসিক এলাকার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেমাই তৈরির কারিগররা তাদের নির্ধারিত পোশাক না পড়েই অপরিষ্কারভাবে ময়দা ছানাসহ সব কাজ করছেন। কাজের সময় শরীরে পোশাক না পড়ায় শরীর থেকে ঘাম ঝরে ময়দার মধ্যে পড়ছে। খালি পায়েই ময়দার পাশ দিয়ে চলাচল করায় ময়দার স্তুপের মধ্যে তাদের পা চলে যায়। তবে শুকনো সেমাই প্রস্তুতকালে পায়ে পলিথিন পড়ে সেমাই প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিরা। কারখানা দেয়াল ও মেঝে স্যাতসেতে ও নোংরা।
কারখানার ছাদে গিয়ে দেখা মিললো কাঁচা সেমাই সেখানে রোদে শুকানো হচ্ছে। শুকানোর সময় সেসব পুরাতন নোংরা শ্যাওলা পড়া বাঁশের উপরে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাখিসহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গ সেই সেমাইয়ের উপর এসে বসছে। এছাড়া ধুলাবালিও এসে পড়ছে সেমাইয়ে।
এ ব্যাপারে শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা কারখানার ম্যানেজারে সাথে কথা বলতে বলেন। পদ্মা ফুড ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজার সারোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন গরমের দিন তাই কারিগররা মাঝে মাঝে পোশাক খুলে রাখে। তবে আমরা সবসময় তাদের পোশাক পরতে বলি। খালি পায়ে চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে, ম্যানেজার বলেন, ঘরের যেখানে যেখানে পরিষ্কার রাখার দরকারে সেখানে পরিষ্কার রাখা হয়। তাই কারখানার ভেতরে টাইলস লাগানো হয়েছে। এগুলো কোনো সমস্যা না।
‘পদ্মা ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক আবু নাইম দাবি করেন গোটা বিসিক নগরীর মাঝে আমার ইন্ডাস্ট্রি সব থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে আমরা মালামাল তৈরি করি’। আমার গোটা কারখানার খাবার তৈরির স্থানগুলোতে টাইলস লাগানো হয়েছে যেন ধুলাবালি না হয়। তবে মাঝে মাঝে কারিগররা এমন করলে আমরা তাদের সতর্ক করি। খালি পা আর খালি গায়ে নোংরা পরিবেশের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না তবে এখন জানলাম। আমি কারখানায় গিয়ে সকলকে সতর্ক করবো এবং এসব যেন না হয় তা সবসময় খেয়াল রাখবো। পুরাতন শ্যাওলা পড়া বাঁশে সেমাই শুকানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেমাই শুকাতে হয়। না শুকালে খাবার উপযোগী হয় না। আমরা সকল বাঁশ পরবর্তীতে সেমাই তৈরি করতে গেলে পরিষ্কার করে রাখি এবং পরিষ্কার করে আবার নতুন সেমাই শুকানো হয়।
একই চিত্র দেখা যায়, ইউসুফ বেকারিতে গিয়ে। সেখানেও নোংরা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তৈরি হচ্ছে সেমাইসহ বিভিন্ন কনফেকশনারি দ্রব্য। তবে এ সকল বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মচারিরা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তারা মালিকের সাথে কথা বলতে বলেন। ইউসুফ বেকারির মালিক ইউসুফ আলীর ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ