নগরীতে রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছায় নির্বাচনী প্রচারণা

আপডেট: জুন ৩, ২০১৮, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছা-সম্বলিত ব্যানার-পোস্টারে নির্বাচনি হাওয়া-সোনার দেশ

হাট-বাজারে, রাস্তার মোড়ে, চায়ের দোকানে, স্কুলের দেয়ালে, বিদ্যুতের খুঁটিতে, মার্কেটের দর্শনীয় স্থানে, গাছে-যেদিকে চোখ যায়, শুধু রমজানের শুভেচ্ছার পোস্টার, সঙ্গে ঈদেরও। এ দৃশ্য রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকার। নির্বাচনী আমেজ তৈরির জন্য নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব শুভেচ্ছা-সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছেন সম্ভাব্য মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে এ ব্যাপারে নগরবাসীর দৃষ্টিভঙ্গি, ‘নির্বাচন আসছে তো, তাই হিড়িক পড়ছে রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছার। এটা নির্বাচনী শুভেচ্ছা, ঈদ শুভেচ্ছা নয়।’
সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা জানান, প্রতিবছর ভোটের দিন ঘোষণার পর নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়। কিন্তু এবার ভোটের দিন ঘোষণার পর তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণও এগিয়ে আসছে। নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণে রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছা-সংবলিত পোস্টার সাঁটানোতে মনোযোগ দিয়েছেন তারা।
সম্ভাব্য মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের দাবি, পোস্টার সাঁটানোতে কাজ হচ্ছে। মুদি দোকান থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডা, বিপণিবিতান থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস-সবখানে সিটি নির্বাচন নিয়ে আলাপচারিতা শুরু হয়েছে।
নগরী ঘুরে দেখা গেছে, রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টারে ছেয়ে গেছে চারদিক। বাদ নেই বিভিন্ন যানবাহনও। রিকশা-অটোরিকশা থেকে বাস-ট্রাকের শরীরে লাগানো হয়েছে ঈদ শুভেচ্ছার স্টিকার। এ ছাড়া, নগরীর নানা এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে চলছে লিফলেট বিতরণ। নগরীতে সবচেয়ে বেশি সাঁটানো হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এ দলের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যানার-পোস্টার। এ নিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘গত নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই রাজশাহী নগরীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী লিটনের পক্ষে মাঠে সোচ্চার রয়েছি। গতবার রাজশাহীর মানুষ ভুল করলেও এবার তারা বুঝতে পেরেছেন, লিটন ছাড়া রাজশাহীর উন্নয়নে কোনও বিকল্প নেই। তাই এবার শুরু থেকেই লিটনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছি এবং এতে নগরবাসীর সাড়া পাচ্ছি।’
পোস্টার সাঁটিয়েছেন বিভিন্ন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। এর একজন হলেন সেলিম সেখ মাসুম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে। এর আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তবু এবারও নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি। এজন্য ১২ নম্বর ওয়ার্ডবাসীকে রমজান ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার লাগিয়েছে আমার কর্মী-সমর্থকেরা।’
রাজশাহী নগরবাসীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, প্রচার-প্রচারণায় তাদের তেমন নজর নেই। আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তারা সতর্কতা অবলম্বন করবেন। যাকে নির্বাচিত করা হলে শহরের উন্নয়ন হবে, নগরবাসীর উন্নয়ন হবে, তাকে ভোট দেবেন। বিগত ৫ বছরে রাজশাহীর উন্নয়ন থমকে দাঁড়িয়েছে নেতৃত্ব নির্ধারণে এমন ভুল আর করা যাবে না।
নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা রফিকুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর তো রমজান ও ঈদের সময় এতো ঈদ শুভেচ্ছা দিতে দেখি নাই কাউকে। এখন সামনে নির্বাচন আসছে, হিড়িক পড়ছে রমজান ও ঈদ শুভেচ্ছার। এটা ঈদ শুভেচ্ছা না, নির্বাচনি শুভেচ্ছা!’ একই এলাকার বাসিন্দা তারিক সাদমান বলেন, ‘এবছর রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিশ্চিতভাবেই নগরবাসী তাকেই ভোট দেবে, যাকে ভোট দিলে শহরের উন্নয়ন হবে।’
নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা সাঈদ ইকবালও মনে করেন, ‘কে কোন দল করেন বা সমর্থন করেন, সেটা বড় না। ফ্যাক্টর হচ্ছে লোকাল ডেভেলপমেন্ট। সত্যিকার অর্থে, সিটি নির্বাচনে যাকে ভোট দিলে শহরের উন্নয়ন হবে জনগণ তাকেই ভোট দেবে।’
নির্বাচন কমিশন আগামী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে। ১৩ জুন তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ২৮ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এরপর ৯ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীতে মেয়র পদে প্রথম ভোট হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। সেবার জিতেছিলেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। ২০০২ সালের নির্বাচনেও জয় পান তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নের ধারণা পাল্টে দেন। তবে নানা সমীকরণে ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ