নগরীতে হরতালে জনজীবন স্বাভাবিক ছিলো

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও রাবি সংবাদদাতা


রাবির প্রধান ফটকের সামনে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করছেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতৃবৃন্দ-সোনার দেশ

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও সিপিবি-বাসদের ডাকা অর্ধবেলা হরতালে রাজশাহীতে কোনো প্রভাব পড়েনি। হরতালে জনজীবন স্বাভাবিক ছিলো। সময়মতো ঢাকাগামী বাস ছেড়ে গেছে। আন্তঃজেলা বাসগুলোও ছেড়ে গেছে যথাসময়ে। অফিস, আদালতগামী মানুষজন যথাসময়ে অফিসে গেছেন। স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও তাদের স্কুল-কলেজে গিয়েছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, হরতালে জনজীবন ছিলো স্বাভাবিক। সব দোকানপাট ও বিপনিবিতান আগের মতোই নির্ধারিত সময়ে খুলেছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রোববার ভোর ৬টা থেকে হরতালের সমর্থনে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও সিপিবি-বাসদের নেতাকর্মীরা। তবে সকালের দিকে জনগণ রাস্তায় কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় মানুষজন বাড়তে থাকে। অফিসের সময় অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিলো নাগরিকদের চলাফেরা। সপ্তাহের প্রথম অফিস হওয়ায় রাস্তায় যানবাহনও ছিলো বেশি। নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, আলুপট্টি, সোনাদিঘি মোড়, গণকপাড়াতে যানজট তৈরি হতেও দেখা গেছে। বিপণিবিতান ও বাজার ঠিক সময়মতোই খুলেছে। এছাড়া সব দূরপাল্লার ও আন্তপাল্লার পরিবহন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে।
নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, হরতালে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জনজীবন একদম স্বাভাবিক ছিলো।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে রাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোট। গতকাল রোববার সকাল আটটায় হরতাল সমর্থনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতরের সামনে জড়ো হয় বাম জোটের নেতাকর্মীরা। হরতালে রাবিতে আধা বেলা পরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এফ এম আলী হায়দার বলেন, গাড়িগুলো বের হওয়ার সময় বামজোটের নেতাকর্মীরা এসে গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে। তারা গাড়ি চলাচলে বাধা প্রধান করে। তাই দুপুর পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এদিকে রাবির প্রধান ফটের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। রোববার সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে মহাসড়কে দুই পাশের যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থানের পর পুলিশের অনুরোধে নেতাকর্মীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।
রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, ‘বহির্বিশ্বে গ্যাসের দাম কমলেও বাংলাদেশে ক্রমেই দাম বাড়াচ্ছে সরকার। সরকার জনগণের কথা চিন্তা না করে এমপি, মন্ত্রী ও আমলাদের পকেট ভারি করার জন্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে। যার ফলে জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তাই আজকে জনগণের ন্যায্য দাবির হরতালকে সমর্থন জানিয়ে আমরাও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হরতাল পালন করছি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা চালু থাকার পরেও বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।