নগরীর ফুটপাত-রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী : পথচারীদের দুর্ভোগ

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৯, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

রওনক আরা জেসমীন


ফুটপাত ও সড়ক দখল করে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে। এ চিত্র নগরীর সর্বত্রই-সোনার দেশ

নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে এবং পাড়া মহল্লার রাস্তাগুলোর অধিকাংশ জায়গা জুড়ে গৃহনির্মাণ সামগ্রী রেখে ভবনের নির্মাণ কাজ চলতে দেখা যায়। এতে এসব সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন এবং পথচারীদের পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগে। ভবন নির্মাণকারীদের অসচেতনতার কারণে মাঝে মধ্যেই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। আইনজীবীদের মতে ইট, বালু, খোয়া, রড, সিমেন্ট ও পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী এভাবে রাস্তা দখল করে ফেলে রাখা বেআইনি। কিন্তু তারপরও এই আইন মানছেন না অনেকেই। আবার এই বিধান অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অনেক সময় ব্যবস্থা গ্রহণেও গাফিলতি দেখা যায় সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও পাড়া-মহল্লার রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, ভবন নির্মাণকারীরা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। আবার অনেক ইট, বালু, রড ব্যবসায়ীরাও রাস্তার ওপর তাদের মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
লক্ষ্মীপুর মোড়, ভেড়িপাড়া মোড়. কাজিহাটা রেডিও সেন্টারের সামনে, মিশন হাসপাতালের সামনে, জমজম ক্লিনিকের সামনে, পাঠানপাড়া রোড এবং উপশহর, বিলশিমলা, রেশমপট্টি, কাজলা, রানীনগর, বিনোদপুরেরে বিভিন্ন অলিগলিতে রাস্তায় পাথর, বালু, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন গৃহনির্মাণ সামগ্রী রেখে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে এ সড়কে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট তেমনি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
কাজলা নিবাসী সুফিয়া বেগম বলেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাচলে খুব অসুবিধা হয়। এলাকায় রিকশা ভ্যান ছাড়া কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না। শুধু তাই না একটা রিকশার পাশ দিয়ে সাইকেল যাওয়ারও জায়গা থাকে না।
লক্ষ্মীপুর নিবাসী আব্বাস উদ্দিন জানান, এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত রাস্তা দিয়ে বাড়ির কাছে আসতে পারে না। কোন বাড়িতে যদি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ঢোকার উপায় নেই। রাস্তা নগরীর মানুষের চলাচলের জন্য, এটা তো কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না।
নির্মাণকারীদের মতে, ভবন তৈরির ক্ষেত্রে গৃহনির্মাণ সামগ্রী রাখার আশেপাশে কোনো জায়গা নেই। তাই সাময়িক সময়ের জন্য রাস্তার পাশে এসব রাখতে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বাধ্য হতে হয়। এতে সাময়িক জনদুর্ভোগ হলেও কিছু করার নেই।
আইনজীবী অ্যাড. আবদুল মালেক রানা জানান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ অনুযায়ী জনসাধারণের অসুবিধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। সেক্ষেত্রে রাস্তায় গৃহনির্মাণ সামগ্রী রেখে ভবনের কাজ পরিচালনা করাটা জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধা এবং রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবশ্যই বেআইনি। এ অধ্যাদেশ অমান্য করলে সেক্ষেত্রে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, কেউ রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রেখেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা প্রথমে থানাকে অবহিত করি। তখন থানা থেকে প্রসিকিউশন দেয়া হয়। তা যদি নির্মাণকারীরা উপেক্ষা করে। তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু বলেন, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রেখে ভবন নির্মাণ করা উচিত না। এক্ষেত্রে অবশ্যই নির্মাণকারীদের সচেতন হওয়া জরুরি। এরকম অনিয়ম দেখলে তাদের নিরুৎসাহিত করি এবং দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেই।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, ভবন তৈরির সময় রাস্তাঘাটে নির্মাণ সামগ্রী রাখার ব্যাপারে সিটি করপোরেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্মাণকারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে এই অনুমতি দেয়ার সময় আমরা নির্মাণকারীদের এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করি। কিন্তু সেক্ষেত্রে পথচারী বা যানবাহন চলাচলে কোন অসুবিধা না হয়, সে পরিমান জায়গা রেখে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, এ নিয়ম মানছে না অনেকেই। এতে নগরীর সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই এই বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ সামগ্রী রাস্তা থেকে অপসারণের জন্য আমরা বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি। এসব অপসারণে খুব শিগগিরই আমরা অভিযান পরিচালনা করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ