‘নতুন কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হবে না’

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে নতুন কোনো বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
সোমবার জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাংসদ অ্যাড. জিয়াউল হক মৃধার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের সকল রেজিস্টার্ড, এমপিওভুক্ত এবং আবেদিত ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পার্বত্য জেলায় ইউএনডিপি পরিচালিত ২ হাজার ৩১০টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে নতুন করে কোনো বিদ্যালয় জাতীয়করণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের যে সকল উপজেলায় কোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ নেই সে সকল উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং একটি কলেজ সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে। সে আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছে। এমনকি দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।’
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২০ হাজার ৮৪৭টি। যার মধ্যে ঢাকা মহানগর, ভোলা, লক্ষ্মীপুর এবং মেহেরপুর জেলায় মোট ৩৯৪ শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
তা ছাড়া নেত্রকোনা, কুষ্টিয়া ও ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পদগুলো পূরণের কার্যক্রম চলছে। বাকি পদগুলোতে চলতি দায়িত্ব প্রদানের কার্যক্রম চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় এই পদের নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) থেকে সম্পন্ন হয়ে থাকে। পিএসসি থেকে ৩৪তম বিসিএস থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণের জন্য ৮৯৮ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাদের শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬তম বিসিএসে উন্নীতদের মধ্যে থেকে সরাসরি নিয়োগের জন্য পিএসসির নির্ধারিত ফরমে তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতাবাবদ বাৎসরিক ১০ কোটিরও অধিক টাকা সরকারের ব্যয় হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য রাজস্ব বাজেটে সর্বমোট ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৫৯ হাজার ২০৬ টাকা ব্যয় হয়েছে।’
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি