নতুন নিয়মে ধান-চাল ক্রয় কৃষক উপকৃত হলে দেশও উপকৃত হবে

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৯, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

এখন মাঠে মাঠে আমন ধানের সমারোহ। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। ইতোমধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই কৃষকের মনে আনন্দ। একই সাথে সংশয়ও কাজ করছে। ভাল উৎপাদন হলেই তো হবে না- ভালো দামও পেতে হবে। দাম যদি মধ্যসত্ত্বভোগিদের কারসাজিতে নিম্নমূখি হয়Ñ তাহলে তো সর্বনাশ! উৎপাদন খরচ তোলাই দায় হবে। কৃষকের জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা নয়Ñ সাধারণত এমনটিই হয়ে থাকে।
কিন্তু এবার সরকার ধান-চাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়েই মাঠে নামছে। সরকারের দাবি মতে, এর ফলে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পাবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক ও মিল মালিকদের সঙ্গে যৌথভাবে আমন ধান ও চাল সংগ্রহসহ বেশ কিছু নতুন নিয়ম অনুসরণ করবে সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা প্রান্তিক কৃষকের ঘরে পৌঁছানো সহজ হবে। এতে ভোগান্তি থেকেও কৃষক রেহাই পাবেন বলে মনে করছে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে আসা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে এ বছরই প্রথম সরকার চালের চেয়ে বেশি পরিমাণে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আমন মৌসুমে ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করবে সরকার। এর মধ্যে ছয় লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে তিন লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন সেদ্ধ ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের সহযোগিতায় চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছয় লাখ মেট্রিক টন ধান সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদাম সরকারের কাছে নেই। তাই এ বছর কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ধান দেয়া হবে মিল মালিকদের কাছে। তারা এই ধান থেকে চাল বানিয়ে সরকারকে দেবে। বিনিময়ে সরকার তাদের একটি যৌক্তিক সুবিধা দেবে। যা পরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। সরকারের এমন পরিকল্পনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন মিল মালিকরা।
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তালিকা অনুযায়ী কৃষকের বাড়ি যাবেন। তারা কৃষকের ধান প্রয়োজন অনুযায়ী শুকিয়েছে কিনা তা যাচাই করে দেখে কিনে নিয়ে আসবেন। আর ধান সঠিকভাবে শুকানো না হলে আর কতটা শুকাতে হবে তা বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন। পরে আবার গিয়ে সরকারি লোকজন সেই ধান নিয়ে আসবেন। ধান কী পরিমাণ শুকানো হয়েছে তা মাপার জন্য ময়েশ্চার মেশিন নিয়ে যাবেন কর্মকর্তারা।
কৃষক নির্বাচনে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ এলেও এ বছর তা ঠেকাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতা নেয়া হবে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। সেই তালিকা খাদ্য বিভাগকে দেবে ইউনিয়ন পরিষদ। খাদ্য বিভাগ সেই তালিকায় থাকা কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান ও চাল কিনবে। কৃষকের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাই করে তাদের কাছ থেকে ধান ও চাল কেনা হবে। আর লটারির মাধ্যমে বাদ পড়া কৃষকরা বোরো সংগ্রহের সময় অগ্রাধিকার পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মধসত্ত্বভোগিদের দৌরাত্মের কোনো সুযোগ থাকছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন সংগ্রহ পর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক হলেই সরকারের এই কৃষকবান্ধব উদ্যোগ সফল করা যাবে। তবে কেউ এর কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও রাখতে হবে। কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে তাতে দেশেরই কল্যাণ হয়। সরকারে এই উদ্যোগ সফল হবেÑ এই প্রত্যাশাই রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ