নতুন মাদকের নাম ‘আইস’ মাদকের গডফাদাররা ধরা পড়ে না কেন?

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৯, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

দেশে অনেক সমস্যাই বিদ্যমান। কিন্তু মাদকের সমস্যাটি এতই ব্যাপক যে, দিনের সাথে পাল্ল্ াদিয়ে এ শুধু সমস্যাকে প্রকট থেকে প্রকটতর করে তুলছে। এখন অনেকেই বলবেন দেশের এক নম্বর সমস্যাটি হচ্ছে মাদক। কিন্তু মাদকের এই ছোবল থেকে বাঁচার উপায় কী? মাদক চোরাচালান, মাদক বিক্রি ও সংরক্ষণের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই মাদকের বিস্তার। নতুন নতুন রুট তৈরি হচ্ছেÑ বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরনও।
দেশে মাদকসেবির সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বাংলাদেশের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের হিসেবে দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ এবং সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী আছে ঢাকা বিভাগে। যদিও বেসরকারি হিসেবে, মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ লাখের কাছাকাছি বলে দাবি করে বিভিন্ন সংস্থা। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনর দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকসেবীর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত যে দেশটিতে এ মুহূর্তে যে মাদকটি ব্যবহারের শীর্ষে আছে তা হল – ইয়াবা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসেবে, ২০০৮ সালে যে পরিমাণ ইয়াবা ব্যবহার হতো ২০১৬ সালে এর ব্যবহার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল। এর বাইরে হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিল বহুকাল ধরেই এদেশে অনেক মাদকসেবী ব্যবহার করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যে মাদকের নাম শোনা যাচ্ছে তা হলো- ক্রিস্টাল মেথ বা আইস।
তথ্যমতে, ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ আর ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিন।
“তাই এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক। ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মানবদেহে। ২৭শে জুন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ক্রিস্টাল মেথ বা মেথামফেটামাইন সহ নাইজেরীয় এক নাগরিককে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তার কাছে এ ধরনের ৫২২ গ্রাম মাদক পাওয়া যায়। এর আগে ২৬শে ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থেকে তিনজনকে মাদকসহ আটকের পর তাদের কাছে ৮ গ্রাম আইস পাওয়া যায়।
তরুণদের মধ্যে ভয়ঙ্কররুপী আইস ছড়াতে পারলে বেশি অর্থ আয় করা সম্ভব হবে- এ কারণেই হয়তো মাদক ব্যবসায়ীরা এটি বাজারে আনার চেষ্টা করছে। যাদের ধরা হয়েছে তারা স্বীকার করেছে যে প্রতি গ্রাম আইস তারা পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। এসব তথ্য সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।
মাদক সারা বিশ্বেই কমবেশি সমস্যা। কিন্তু বাংলাদেশের মত উন্নয়নকামী দেশগুলোর জন্য এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ। এটি সমাজের ক্রমউন্নশীল ধারাকে বিপর্যস্থ করে তোলে। সামাজিক অপরাধের মাত্রাকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যায়। একইভাবে দুর্বৃত্তশক্তি সমাজ নেতৃত্বের পুরোভাগে চলে আসে। এর ফলে রাষ্ট্র বা সমাজ ব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ত্বরান্বিত হয়।
স্বাভাবিকভাবেই এই ধারণা স্পষ্টত যে, মাদক ব্যবসার সাথে দেশ বিদেশের প্রভাবশালীরাই জড়িত। তারাই মূলত নেপথ্যে থেকে মাদকের চোরাচালান ও দেশে দেশে এর সম্প্রসারণ ঘটিয়ে থাকে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অনেকেই ধরা পড়ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাচ্ছেÑ এদের কেউ মাদকের ওই নিয়ন্ত্রকদের সারিতে পড়ে না। ফলে মাদ্রকের চোরাচালান ও এর বাজারজাত প্রবণতা কমছে না। মাদকের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এদেরকে চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ খুলে দিয়ে অইনের আওয়তায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবেÑ তবেই এই সর্বনাশা মাদকের প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ