নতুন মাদক আইনের টার্গেট গডফাদার-সিন্ডিকেট

আপডেট: জুন ২২, ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশে যে নতুন মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরি করা হচ্ছে তার লক্ষ্য হবে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকারী গডফাদার এবং মাদক সিন্ডিকেট।
এদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রস্তাবিত এই নতুন আইনের পটভূমি ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসিকে বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে।
দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এই লড়াই ছাড়া কোনো পথ নেই বলে তিনি জানান।
প্রস্তাবিত আইনটির ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯০ এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, মাদক অপরাধীর শাস্তি নির্ভর করে তার কাছে কি পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে তার ওপর।
“কোনও ব্যক্তির কাছে মাদকদ্রব্য না পাওয়া গেলে সে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়,” বলছেন তিনি, “যারা ব্যবসাটা নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ খুব একটা থাকে না।”
এই বিষয়টাকে মাথায় রেখেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি বলেন।
কিন্তু কবে নাগাদ এই আইন চূড়ান্ত করা হবে সে সম্পর্কে আনিসুল হক বলেন, আইনের খসড়াটি তৈরি করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তারা সেটি যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেই তখন এর মেয়াদ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
এই বিষয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৮ই মে থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ১৫,৩৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মোট ২০,৭৬৭ ব্যক্তিকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে বলে তিনি বলেন।
ওদিকে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধের নামে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মাদক বিস্তারের দায় এড়াতেই এবং মাদকের মূল উৎসকে আড়াল করার লক্ষ্যেই সরকার এভাবে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করছে।
কথিত বন্দুকযুদ্ধের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি করছে মানবাধিকার কর্মীরা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা