নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা নদীকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৯, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানবজাতি টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নদী।’ এ সংক্রান্ত বতেকটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
নদী রক্ষায় বিভিন্ন দেশের আদালতের দেয়া রায়ের উদাহরণ দিয়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘আমাদের দেশের সব নদীকে রক্ষা করার সময় এসেছে। যদি তা না করতে পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
বিশ্বজুড়েই এই বোধ এখন জাগ্রত যে, প্রকৃত অর্থে নদী মানব সভ্যতা গড়ে তুলেছেÑ সেই নদী যদি নিঃস্ব হয়ে যায় তার চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলে তা হলে মানব সভ্যতাও টিকবে না। পৃথিবীর অনেক দেশকেই বিষয়টি গভীরভাবে ভাবিত করছে। নদী রক্ষার জন্য বিস্তর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সরকার আইন প্রণয়ন করে নদীকে বেদখলের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশেরও সেই সময় এসেছে নদীকে রক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন করা। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেই দিশাই জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটা একেবারেই ভিন্ন। নদী দখলটা এই ভূ-খ-ে উৎসবের মত। নিষ্ঠরতার সাথেই অসংখ্য নদীর প্রাণ কেড়ে নেয়া কঠোর-নির্মমতায়। অথচ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশে শিরা-উপশিরার মত ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী বাংলার মাটি ও মানুষের প্রাণাবেগ সৃষ্টি করে ছিল। এ দেশের মানব সমাজ ও কৃষি নদীর রসেই উজ্জীবিত হতো এক সময়। কিন্তু ওই ঐতিহ্য বাংলাদেশ হারাতে বসেছে শুধু নয়Ñ নদী হারিয়ে মানুষই বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছে। এখন চারিদিকে হায় হায় রব। ব্যাপকভাবে টান পড়েছে ভূ-উপরিস্থ পানির। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, মানুষ ও প্রকৃতির উপর। এমনই দুঃসহ সন্ধিক্ষণে শটকার্ট পথ হিসেবে বাংলাদেশ ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা আরো ভয়ঙ্কররূপে জাতির সামনে হাজির হয়েছে। যদিও এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে বাংলাদেশ। নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। নদী খননের জোর ব্যবস্থা চলছে, নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু নদীকে মুক্ত করার উদ্যোগ তেমন এগোইনি। এটাই এখন সময়ের দাবি। যে সব নদী এখনো টিম টিম করে টিকে আছে সেগুলোতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা একইভাবে নদীর অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটি বিলম্বিত সময়ের ব্যাপার নয়Ñ যথাশিগগিরই সম্ভব নদীকে রক্ষার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা মানুষ ও প্রকৃতি মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ