নব্য জেএমবির ১২ ‘আবদুল্লাহ’

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দেশে ও দেশের বাইরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্তত ১২ জন নব্য জেএমবি সদস্যের তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। যারা সবাই ‘আবদুল্লাহ’ নামে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। সম্প্রতি মিরপুর দারুসসালামে র‌্যাবের অভিযানের মুখে ‘আত্মঘাতী’ হয়ে ওঠা জঙ্গি আবদুল্লাহ নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবির পলাতক ‘আবদুল্লাহ’দের বিষয়ে নতুন করে খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মিরপুরের দারুসসালামে যে আবদুল্লাহ নিহত হয়েছে তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ বিভিন্ন টিম আগে থেকেই কাজ করছিলো। এছাড়া সন্দেহের তালিকায় থাকা নব্য জেএমবির ১২ জন ‘আবদুল্লাহ’র বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, নব্য জেএমবির সদস্যরা আসল নামের বদলে ছদ্মনাম গ্রহণ করে। যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন ‘কোড’ ব্যবহার করে। এভাবে একই নামে অনেক সদস্য সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে থাকে।
সিটিটিসি সূত্রমতে, ২০১১ সাল থেকে সক্রিয় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) জঙ্গি আবদুল্লাহ ওরফে আবদুল্লাহ আল মামুন। সম্প্রতি সে ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর জেলার কুতেসরা এলাকা থেকে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। তার বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায়।
এদিকে ধর্মান্তরিত জঙ্গি সদস্য গৌরাঙ্গ কুমার মণ্ডল নিজের সাংগঠনিক নাম আবদুল্লাহ হাসান ওরফে আবদুল্লাহ আল জাফরি গ্রহণ করে। যদিও সে তামিম দ্বারী নামেও পরিচিত। তার অন্য নামগুলো হচ্ছে- আজিজুর রহমান ওরফে আমির হামযা। তার বাড়ি সাতক্ষীরার উত্তরপাড়ায়। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় সে ইসলাম গ্রহণ করে তামিম দ্বারী নাম ধারণ করে।
আরও একজন আবদুল্লাহ নামধারী জঙ্গি সিটিটিসির তালিকায় ছিল। তার আসল নাম প্রভাত কুমার। ইসলাম গ্রহণের পর সে আবদুল্লাহ নাম ধারণ করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যুক্ত হয়। পরে যুক্ত হয় নব্য জেএমবিতে। তার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনে পাড়ার আস্তানা থেকে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এই আবদুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়।
এছাড়া, দেড় বছর আগে রাজধানীতে একজন নব্য জেএমবি সদস্য মারা যান। তার নামও ছিল আবদুল্লাহ ওরফে নোমান।
সর্বশেষ মিরপুর দারুস সালামে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহ সম্পর্কে র‌্যাবপ্রধান বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘২০০৫ সালে তার সঙ্গে জেএমবির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে নব্য জেএমবিতে আবদুল্লাহ যুক্ত হয়। সে নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য ছিল।’
র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, নবীজীর পিতার নাম আবদুল্লাহ। এ কারণে নব্য জেএমবি’র অনেকেই এই নাম ধারণ করে থাকে। আবার অনেকে তাদের আসল নামের বিপরীতে ‘জঙ্গি’দের ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন ‘কুনিয়া’ (ছদ্মনাম) ধারণ করে।
জঙ্গিদের ‘আবদুল্লাহ’ নাম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক জঙ্গি সদস্য আছে, যাদের নামের আগে ও পরে আবদুল্লাহ যুক্ত আছে।’
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন