নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হরিজন পল্লীর বাসিন্দারা

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৮, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম


সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১১ নম্বর ওয়ার্ডটিতে রয়েছে আটটি মহল্লা হেতেম খাঁ, রাজার হাতা, সবজিপাড়া। মোট ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ১৬০। ওয়ার্ডটির সবচেয়ে অবহেলিত হরিজন পল্লীর বাসিন্দারা। রাজশাহী হরিজন পল্লীর বাসিন্দারা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এমন অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন থেকে এলাকাটিতে রয়েছে জলাবদ্ধতার সমস্যা। রয়েছে খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট। সবচেয়ে বড় সমস্যা বসবাসরত হরিজন পল্লীর দেড় হাজার বাসিন্দার জন্য রয়েছে মাত্র চারটি টয়লেট। ফলে ভোগান্তি আর দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
এ ওয়ার্ডের অন্য মহল্লাগুলোতেও রয়েছে জলাবদ্ধতার সমস্যা এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট। কয়েকটি মহল্লায় রাস্তা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তায় পড়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রী, ওয়ার্ডটিতে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা এবং চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ছড়াছড়ি। সন্তানদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হয় অভিভাবকদের।
হরিজন পল্লীর বাসিন্দা বিমল ও রিপন বলেন, এই ওয়ার্ডের হরিজন পল্লীর ভোট একটি বড় বিষয় অথচ আমাদের উন্নয়নের জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি।
গণেশ বলেন, ভোটের সময় আমাদের অনেক প্রতিশ্রতি দেয়া হয় কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কারো এসব প্রতিশ্রুতির কথা মনে থাকেনা।
সুনীল বলেন একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার কারনে চলাচল করা যায়না। হরিজন পল্লীর বাসিন্দাদের ছোট ছোট ঘর, ময়লা ড্রেন, অপরিচ্ছন্ন পুকুর আর টয়লেট।
এ সময় হরিজন পল্লীর দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে সুনীল বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা হরিজন পল্লীর বাসিন্দারা তিনশ’ বছর থেকে এখানে বসবাস করছি। এ পল্লীর জনসংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। ছোট্ট ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঠাসাঠাসি করে বসবাস করছেন মানুষ। এছাড়া জায়গার সমস্যার কারণে প্রায় ২৫ বছর আগে একটি বেসরকারি সংস্থা পল্লীতে বসবাসরতদের জন্য চারটি টয়লেট নির্মাণ করে দিয়েছিল। এতগুলো মানুষ ওই চারটি টয়লেট ব্যবহার করেন। ফলে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে এ পল্লীতে আমাদের বসবাস করতে হয়। এছাড়া এ মহল্লার সবজিপাড়া, কারিগরপাড়া, রাজারহাতাসহ কয়েকটি মহল্লায় অবাধে মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়। মহল্লার যুবকরা সহজেই হাতের নাগালে মাদকদ্রব্য পেয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন।
এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনজন প্রার্থী। এদের মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর আবু বাক্কার কিনু, সাবেক কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম তজু এবং হাসিবুল হক।
এ ব্যাপারে সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামীলীগ নেতা রবিউল ইসলাম তজু বলেন, আমি কাউন্সিলর থাকাকালিন সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তার পর বর্তমান কাউন্সিলর তেমন উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ন করতে পারেনি। আগামীতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে হরিজন পল্লীসহ এলাকার মাদককে মূল উৎপাটন করব। এ ছাড়া এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করার জন্য যা করনীয় তাই করা হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বর্তমান কাউন্সিলর আবু বাক্কার কিনু বলেন, এলাকায় আমি ব্যাপক উন্নয়ন করেছি ওয়ার্ডবাসি এবারও আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ