নাটকের নাম পাখি

আপডেট: মে ১৮, ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ফৌজিয়া ইয়াসমিন


সংক্ষেপে: গ্রাম্য পরিবেশে একটা প্রাইমারী স্কুল। এখানে নি¤œ মধ্যবৃত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা মাটির পথ ধরে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে করতে স্কুলে যায়। এক দিন ক্লাশে শিক্ষক ৫ম শ্রেণির ছাত্রদের প্রকৃতি ও তার প্রাণিদের যতœ করার ব্যাপারে উপদেশ দিলেন। ফলে সেই ক্লাশেরই দুইজন ছাত্র যারা ছুটির দিনে পাখি শিকার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তারা পাখি শিকার না করার প্রতিজ্ঞা করল।
চরিত্র
শিক্ষক : ৪৫ বছর।
রহিম : ১১ বছর।
করিম: ১১ বছর।
১ম আগন্তক : ১০ বছর।
২য় আগন্তক : ১০ বছর।
দৃশ্য-১
গ্রামের একটা প্রাইমারী স্কুলে রহিম, করিম আর অনেকে পড়ে। স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটা এখনও পাকা হয় নি। পথের দুপাশে গাছপালা ঝোপ ঝার আর খানা খন্দকে ভরা ঐ পথ দিয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়। গ্রামের নির্মল পরিবেশে পাখি দেখতে দেখতে তারা স্কুলে যায়।
রহিম : জানিস করিম কালকে হাট থেকে আমি একটা জিনিস কিনেছি।
করিম : [রাস্তার মাটির ঢেলায় একটা পাখি মেরে] দেখলে দেখ। না দেখালে না দেখা। আমিও একটা জিনিস কিনেছি।
রহিম : আমি কি একবারও বলেছি। তোকে দেখাব না।
করিম : তাহলে দেখা।
রহিম : (পকেট থেকে বের করে) এই- নে দেখ।
করিম : (হাতে নিয়ে) এ তো একটা বাটুল, পাখি মারবি?
রহিম : তাই তো কিনেছি।
করিম : আমারও একটা আছে। দুইজনে মিলে তাহলে চল জাম ডাঙ্গায় যাব। ওখানে ঘুঘু পাওয়া যায়।
রহিম : আজ নদীতে যাবি।
করিম : তুই যাবি
রহিম : তাই তো তোকে বলছি। বড়শি নিয়ে যাব আর দাদুর বাগানের আম পেড়ে খাব।
করিম : বুড়া খুব কিপ্টা খুব কড়া পাহারা রাখে বাগানটাকে।
রহিম: (হাসবে) আমাদের সঙ্গে পারবে নাকি? আমরা চাইলে ওর বাগানের সব আম পেড়ে নিতে পারি।
করিম: না না আমরা এখন আর কোন মানুষের গাছের ফলে হাত দিব না পাপ হবে।
দৃশ্য-২
পরের দিন রহিম আর করিম দু’জনে স্কুলে যাচ্ছে রাস্তার পাশ দিয়ে যে জঙ্গলটা চলে গেছে সেখানে ঝোপের মধ্যে দুই জন অপরিচিত বালককে দেখতে পেল। তাদের হাতে পাখির বাচ্চা আর মা পাখিটা আর বাবা পাখিটা ওদের পিছু পিছু কিচির মিচির শব্দ করে উড়ছে। রহিম আর করিম দৌড়ে ওদের সামনে এলো।
রহিম : এই তোরা কারা? তোদের বাড়ি কোথায়?
১ম আগন্তুক : ঐ হেই গ্রামত (আঙুল তুলে)
করিম : আমাদের গ্রামে পাখির বাচ্চা ধরতে এসেছিস?
২য় আগন্তুক : হয় ধরনু।
রহিম : দেখছিস না ওদের মা কেমন কাঁদছে?
১ম আগন্তুক : তয় কি হয়?
২য় আগন্তুক : হ্যামরা গাছত চড়ে পাখির ছাও ধরনু।
করিম : (রেগে গিয়ে বলবে) ইয়ার্কি পাইছিস। হেই গাও এর ছাওয়াল এই গাওত ক্যান?
রহিম : ঠিক বলেছিস? পাখির মা কাঁদছে। আর ওরা বলছে তয় কি? ধর শালাদের।
করিম : (সামনে এগিয়ে দৃঢ়ভাবে বলবে) কেন গাছ থেকে পাখির বাচ্চা পেড়েছিস) চল দেখাবি। (ওরা ভয়ে ভয়ে গাছের দিকে এগুবে)
১ম আগন্তুক : (আঙুল দিয়ে দেখাবে) ঐ গাছত থন বাচ্চা পাড়ছিনু।
করিম : (২য় আগন্তুককে ইশরা করবে) গাছে উঠ। যেখান থেকে বাচ্চা পেড়েছিস সেই খানে বাচ্চা রাখবি। না হলে তোর হাড্ডি ভাঙছি দেখ।
রহিম : (২য় আগন্তুক গাছ থেকে নেমে এলে) ঠিক মত বাচ্চা রেখেছিস তো। দেখ করিম, পাখিদের ডাকাডাকি কমে গেছে। ওর মা-বাবা বুঝতে পেরেছে আমরা বাচ্চাদের বাসায় দিলাম।
করিম : (দুই আগন্তুককে ধমক দিয়ে)
আবার দাঁড়িয়ে, যা ভাগ। (ওরা দৌড়ে পালাবে)
৩য় দৃশ্য
ক্লাশে রহিম ও করিম অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে বসে আছে। এখন বিজ্ঞান ক্লাশ। স্যার এলেন। সবাই উঠে দাঁড়াবে। স্যার বসতে বলবেন
স্যার : কি কেমন আছ তোমরা?
রহিম : স্যার আমরা সকলে ভাল আছি।
স্যার : বেশ-বেশ, আজ আমি তোমাদের পরিবেশ সম্পর্কে কিছু বলব।
রহিম : স্যার পরিবেশ তো সমাজে হয়।
স্যার : (হাসবেন) হ্যাঁ ঠিক বলেছ। কিন্তু পরিবেশ বিজ্ঞানেও হয়। যাকে আমরা বলে থাকি ইকোলজিক্যাল সিস্টেম।
করিম : স্যার আমরা শুনব, আপনি বলেন।
স্যার : বলছি শোন! আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি এখানে প্রাণি আর প্রাণের বসবাস। ধর একটা কৃষক ধান লাগাল। খুব ভাল ধান হয়েছে। কিন্তু পোকার পরিমাণ বেড়ে গেল সব ধান তারা খেয়ে নেয় তাই না। কিন্তু প্রকৃতি সেটা ব্যালান্স করবে কিভাবে? পাখিরা পোকাদের খেয়ে ফেলবে। কিছু পোকা বেঁচে যাবে আবার তারা বংশ বৃদ্ধি করবে। আর মানুষের খাওয়ার জন্য প্রকৃতি এই ভাবে খাদ্য বাঁচাবে। তাই এই পৃথিবীতে আল্লার সৃষ্টি অতি ক্ষুদ্র প্রাণিরও প্রয়োজন আছে।
করিম : স্যার, আমরা সাপ দেখলেই, মেরে ফেলি।
স্যার : সেটা উচিৎ নয়। কেননা সাপ ইঁদুর খেয়ে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করে। এদের ক্ষতি করা উচিৎ না।]
করিম : স্যার যে মানুষকে কামড়ায় মানুষ মারা যায়।
স্যার : সাপ এমনি মানুষকে কামড়াবে না। ও বিরক্ত হলেই কামড়ে দেয়। আত্মরক্ষা বলতে পার।
রহিম : স্যার, তাহলে আমরা তো এসব প্রাণিদের মেরে আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি করছি।
স্যার : ঠিক বলেছ। পৃথিবীতে একটি ক্ষুদ্র জীবেরও প্রয়োজন আছে পরিবেশের জন্য। এদের নিধন করে যদি আমরা শেষ করে ফেলি তবে এক দিন পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। আমরাই তখন ক্ষতিগ্রস্থ হব।
৪র্থ- দৃশ্য
ছুটির দিন বেলা প্রায় ১১.০০টা রহিম আর করিমের হাতে বাটুল। ওদের সঙ্গে মাটির তৈরি গুলতিও আছে পকেট ভর্তি। নদীর ধার দিয়ে ওরা হাটছে।
রহিম : (উদাসীনভাবে) আমরা কোথায় যাচ্ছি?
করিম : কেন? জাম ডাঙ্গায়। ঘুঘু মারতে।
রহিম : (নদীর ঢালুতে বসে পড়ে) আচ্ছা শোন, কাল আমাদের ক্লাশে স্যার-বলছিলেন না, পাখি, ইঁদুর সব আমাদের পরিবেশকে বাঁচায়। আর আমাদের এদের প্রতি যতœ করা উচিৎ। তবে কেন আমরা ঘুঘু মারতে যাচ্ছি?
করিম : (মনে করার ভান করে) ঠিক বলেছিস, আমার স্যারের কথা মনে ছিল না।
রহিম+করিম : (এক সঙ্গে) এখন আমাদের কি করা উচিৎ।
রহিম : (বাটুল হাতে নিয়ে) এই বাটুল আমাদের কাছে থাকলে আমাদের পাখি মারতে ইচ্ছা করবে। চল এটা আর গুলতিগুলো আমরা নদীর পানিতে ফেলে দিই।
করিম : ঠিক বলেছিস। (দু’জনেই নদীর পানিতে বাটুল ছুড়ে ফেলে দেবে)
রহিম+করিম: (নদীর সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলবে) আমরা প্রতিজ্ঞা করলাম, আর কখনও বনের পশু পাখি মেরে পরিবেশের ক্ষতি করব না।