নাটোরের বনপাড়া পৌর নির্বাচন সম্ভাব্য সকল প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের প্রায় দুই বছর পরে নাটোরের বনপাড়া পৌরসভার নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করা হয়েছে। গত রোববার রাত আটটার দিকে তফশীল বিষয়ে অবগত করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও নির্বাচনের সহকারী রির্টানিং অফিসার ইসহাক আলী সরকার। ঘোষিত তফশীল অনুসারে ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ হবে।
ভোট হবে কি হবে না এমন শঙ্কা থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের বলয়ের মধ্যেই আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল এতোদিন। এবার তফশীল ঘোষণার সাথে সাথে আধাজল খেয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনায়র উত্তোলন ও জমা দেওয়া, ২৮ ও ২৯ নভেম্বর যাচাই বাচাই এবং ৬ ডিসেম্বর মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারন করা হয়েছে।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেএম জাকির হোসেন এবং জাকির হোসেন সরকারের নাম শোনা যাচ্ছে। অপরদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এম লুৎফর রহমান এবং পৌর বিএনপির সদস্য সন্ত্রাসী হামলায় নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নুর বাবুর স্ত্রী মহুয়া নুর কচি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয় বর্তমান মেয়র কেএম জাকির হোসেনই পাবেন বলে সবার ধারণা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সভায় তাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছেন স্থাণীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুুল কুদ্দুস। এজন্য তার মনোনয়ন সময়ের বিষয় মাত্র। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে এখনো স্পষ্ট বলা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমান মেয়র কেএম জাকির হোসেন বলেন, পৌরসভার সকল নাগরিকদের জন্য নিরলস ভাবে গত ছয় বছর কাজ করেছি। এবারের নির্বাচনে পৌরসভার বর্তমান উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতে ভোটাররাই তাদের স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে।
অপর প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, পৌরবাসীর সমর্থন চাচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি অবশ্যই বিজয়ী হবো।
পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, লাইটিংসহ সকল ক্ষেত্রে অভুতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন বর্তমান মেয়র। এছাড়া খ থেকে ক শ্রেণিতে উন্নীত করণ, তৃতীয় নগর উন্নয় প্রকল্পভুক্ত করে প্রায় ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ এবং পানি সরবরাহ ও পয়নিষ্কাশন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৫৬ কোটি টাকার কাজ শুরু করেছেন। চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে বর্তমান মেয়রের বিকল্প নাই। আমরাও তারজন্য ঐক্যবব্ধ হয়ে কাজ শুরু করেছি।
বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এম লুৎফর রহমান বলেন, পৌরবাসী পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমাকে পৌরবাসী তাদের সেবা করার সুযোগ দিলে মাদকমুক্ত আধুনিক শিক্ষা নগর গড়ে দেব। তিনি বলেন, নব্বইয়ের শৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি রাজনীতির মাঠে রয়েছি। দলের জন্য বর্তমান সরকারের দমন-পিড়ন, বারবার কারাবরণ এবং প্রায় একজন ডজন মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে পৌর বিএনপির কান্ডারী হিসেবে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছি। দল আমার এই শ্রমের মূল্যায়ণ করবে এটাই মনে করে পৌরসভার সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। তিনি আরও বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আমাদের অভিভাবক, তিনি যাকে মনোনয়ন দেবেন আমারা সকলেই তার জন্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো।
বিএনপির অপর প্রার্থী মহুয়া নুর কচি বলেন, আমি গত নির্বাচনেই বিজয়ী হয়েছেলাম। ষড়যন্ত্র করে আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবার আমার সমর্থকরা আরও সর্তক থাকবে। ফলে বিজয়ী হয়েই ফিরবো বলে আমার ভোটাররা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে। যেহেতু আমার ভোটের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাই দলীয় মনোনয়ন আমিই পাব। এছাড়া আমার স্বামী শহীদ সানাউল্লাহ নুর বাবু পৌরসভার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা নির্বাচন করেছিলেন। তার অনুসারীরা সবাই আমার সাথে রয়েছেন।
পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুর রহমান মৃধা বলেন, দলের স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। কচি অসুস্থ্য, নিজে চলাফেরা করতে পারে না। তারপক্ষে ক্ষমতাসীনদের সাথে টক্কর দিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব না। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মনোনয়ন দেবেন বলে বিশ্বাস করি।
২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৬.৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত পৌরসভায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০১১ সালের ১২ জুন। পূর্বের ৯টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এবার ১২টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ১১.১৬ বর্গকিলোমিটাররের ’ক’ শ্রেণির এই পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ২১ হাজার ২ শ ৫৪ জন এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ৭ শত ৪৪ জন। উল্লেখ্য, মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সীমানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এ পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত ছিল।