নাটোরে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যস্ত ২২ গরুর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস



নাটোর শহরের আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা একটি পোল্ট্রি খামারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। পৌরসভার উত্তর বড়গাছা এলাকায় মায়ের দোয়া পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি নামের ওই মুরগির খামারের বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনায় এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্জ্য দূষনের কারণে অনেকেই চর্মরোগ, সর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছু গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।
ওই পোল্ট্রি খামার সংলগ্ন গো খামার মালিক হাজি হোসেন আলী জানান, মুরগির বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে গত কয়েক বছরে তার ২২টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। পৌরসভার উত্তর বড়গাছা এলাকার  ক্ষতিগ্রস্ত হাজি হোসেন আলীসহ এলাকাবাসী জানান, ২০০৭ সালে এলাকাবাসীর বাধার মুখে খামারটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে খামারটি আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও অন্যত্র সরিয়ে না নিয়ে উপরন্তু তা প্রসারিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারতলা ভবন করে সেখানে মুরগি রাখা হয়েছে। ফলে চারতালায় রাখা মুরগির দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। ওই সময় যত্রতত্র বর্জ্য নির্গমণের কারণে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে মানুষ বিশেষ করে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুরগির খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য স্থানীয় সাংসদ, মেয়র ও পরিবেশ অধিদফতরের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে মায়ের দোয়া পোল্টি অ্যান্ড হ্যাচারির পরিচালক জান্নাতুন জামান স্থানীয়দের এসব অভিযোগকে মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তার উত্থানকে হোসেন হাজির মতো প্রভাবশালীরা ভালো নজরে গ্রহণ করতে পারছেন না। আমার মুরগির খামারের কোন বর্জ্য বাহিরে যায় না। উপরন্তু হোসেন হাজির গো খামারের বর্জ্য যত্রতত্র দিয়ে নির্গত হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে। আর আমার মুরগির খামারের ভেতর দিয়ে হোসেন হাজির নির্গত বর্জ্যরে পথ বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়া লেলিয়ে দিয়েছেন। অর্থের লোভ দেখিয়ে স্থানীয় কিছু মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। তিনি আমার মুরগির খামারের কিছু অংশ দখল করতে না পেরে প্রতিশোধ নিতে অপপ্রচার করে মুরগি খামারের বিরুদ্ধে মানুষ লেলিয়ে দিয়েছেন। এলাকার মানুষদের কথা বিবেচনায় রেখে আমি এই মুরগির খামার করেছেন। প্রতিনিয়িত পরিস্কার করা হয় এবং প্ররিবেশ অধিদফতর থেকে অনুমতি রয়েছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা প্রায়ই খামার পরিদর্শন করেন।
পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা আবেদনপত্র তার কাছে কেউ দেয় নি। পেলে খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে শুনেছেন এলাকায় ওই দুইপক্ষের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।
এদিকে বগুড়ার পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক একেএম মাসুদুজ্জামান এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং কোন অভিযোগ পান নি বলে জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ