নাটোরে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনের পানি রাস্তায় জনরোষের মুখে হাসপাতাল বন্ধ

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


নাটোর শহরে জনরোষের মুখে পড়ে আল সান নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ক্ষুদ্ধ বড়হরিশপুর মহল্লাবাসী হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে উত্তোজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দির্ঘদিন ধরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও টয়লেটের পানি রাস্তায় ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে আসার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসি হাসপাতাল ও পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করলেও কোন কাজে আসেনি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের পানি নিস্কাসনের স্থায়ী সমাধান করা হবে ।
নটোর পৌর এলাকার বড় হরিশপুরের এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম নান্টুসহ আরো অনেকে বলেন, বড় হরিশপুর মহল¬¬ায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। তাদের চলাচলের একমাত্র পথ এটা। গত চার বছর আগে এই পথের পাশে আল সান হাসপাতাল নির্মাণ করে কতৃপক্ষ। হাসপাতাল নির্মাণের পর থেকেই ওই হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ও টয়লেটের পানি বড়হরিশপুর মহল্লায় প্রবেশের রাস্তায় প্রতিনিয়ত ফেলতে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে রাস্তাটি এলাকাবাসীর যাতায়াত অযোগ্য হয়ে পড়ে। হাসপাতালের প্রতিদিনের ব্যবহৃত স্যূয়ারেজ লাইনের পানি ওই রাস্তায় গিয়ে পড়ে। এতে রাস্তা নষ্ট সহ জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও এই পথ দিয়ে এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদে প্রতি ওয়াক্তে মুসল্লি¬দের নামায আদায়ের জন্য যেতে হয়। একমাত্র পথ হওয়ায় মসুল্লিদের মলমুত্র পেরিয়ে মসজিদে যেতে হচ্ছে। এবিষয়ে বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অদৃশ্য কারণে হাসপাতালের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন বাড়তে থাকে জনরোষ। এরই এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে এলাকাবাসীরা আল সান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে সদর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলর নান্নু শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এবিষয়ে আল সান হাসাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাবলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি, আগামী দুই দিনের মধ্যে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ঘটনাটির বিষয়ে জানতে নাটোর সদর থানার উপ-পরিদর্শক হুমায়ন আহমেদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ওর্য়াড কাউন্সিলর নান্নু শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পৌর এলাকার রাস্তায় ময়লা বা পয়ঃনিস্কাশনের পানি ফেলে নোঙরা করার অধিকার কারও নেই। এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে তারা যেন দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করেন।
এ ব্যাপারে নাটোর পৌর মেয়র উমা চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আল সান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেও সঙ্গে কথা বলে পয়ঃনিস্কাশনের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন। যদি তারা ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তাহলে পৌর বিধি মোতাবেক ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।