নাটোরে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৮, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেস্ট হাউজের পাশের জাইগাটি এভাবেই দখলে নিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার-সোনার দেশ

নাটোরে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৭ শতাংশ জায়গা ভরাট করে দখলে নিয়েছেন খোদ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলম বখতিয়ার ও তার লোকজন। এই ঠিকাদার বতর্মানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বনবেলঘরিয়া বাইপাস মোড় পর্যন্ত নাটোর শহরের প্রধান সড়কের মিডিয়ানসহ পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ করছেন। শুধু তাই নয় , সরকারি অনুমোদন না নিয়েই তিনি পুকুর ভরাট করছেন। এতে করে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, সম্প্রতি নাটোর শহরের বড়হরিশপুর থেকে বনবেলঘরিয়া পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করা হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছেন শামীম এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মীর হাববুল আলম অ্যান্ড মীর শরিফুল আলম (জেভি)। ৫৮ দশমিক ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর থেকে বনবেলঘরিয়া বাইপাস পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার লম্বা দুই লেন রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। গত বছর ৬ অক্টোবর স্থানীয় সাংসদ শফিকুল ইসলাম শিমুল আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তার এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন।
ওই কাজের উদ্বোধন পর থেকেই নাটোর এনএস কলেজ মাঠের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেস্ট হাউজ সংলগ্ন শহরের মূল সড়কের পাশে ১৩ শতক এবং সড়ক বিভাগের ৪ শতকসহ ১৭ শতাংশ জমি দখল শুরু করেন ঠিকাদার হাবিবুল আলম ও তার লোকজন। ইতোমধ্যে ১৭ শতাংশ জায়গার মাঠি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পুকুর ভরাট শেষ পর্যায়ে ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৯ বছর আগে বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে নিজস্ব গেস্ট হাউজ সংলগ্ন এলাকায় মোট ১১টি প্লটে ২দশমিক ৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করে ইটভাটা স্থাপনের জন্য। পরবর্তীতে ইটভাটার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের জমি ফেরৎ দেওয়া হয়। কিন্তু গেস্ট হাউজের জন্য অপরিহার্য ১৩ শতাংশ জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহনেই রাখে। যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে এসএ এবং আর এস রেকর্ড ভুক্ত হয়।
এ ব্যাপারে নাটোর জজ কোর্টে সিনিয়র আইনজীবি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগকৃত আইনজীবী মোশারাফ হোসেন জানান, ১৯৬০-৬১ সালে এল এ কেস নম্বর- ১৪৭-এর মাধ্যমে নাটোর শহরের উত্তর এলাকার বাসিন্দা মৃত্য মুন্সি শের মো. খাঁনের ছেলে খোরশেদ আলী খাঁনের কাছ থেকে নগদ টাকা দিয়ে ওই জমিটি ক্রয় করেন পাউবো। পরে খোরশেদ আলী খাঁন মারা যাওয়ার পর ওই জমির ওয়ারিশানা দাবি করে ২০০৬ সালে নাটোর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে খাঁন মো. মুঞ্জুর-এ খোদাসহ তারা চার ভাই একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় আদালত গত ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে রায় দেন। বর্তমানে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জেলা জজ আদালতে একটি আপিল মামলা করেছেন। এমতাবস্থায় অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার মীর হাবিবুল আলম ও তার রোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে না জানিয়ে মাটি ভরাট করেছেন। যা বেআইনি ও অন্যায়।
এব্যাপারে মীর হাবিবুল আলম বখতিয়ারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে নাটোরের বাইরে রয়েছেন । কাগজ পত্র না দেখে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে। তবে অপর ঠিকাদার মীর হাবিবুলের ব্যবসায়ীক পার্টনার আশফাকুর রহমান জানান, জায়গাটি তারা দখল করেন নি। মুলত পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গার পরে বখতিয়ার সাহেবের একটি পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরটি ভরাট করার জন্য মাটি নিয়ে যাওয়ার জন্য ওই জায়গাটি ভরাট করা হয়েছে। এছাড়া নাটোর শহরের সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ করতে গিয়ে মাটি খনননের পরে উদ্বৃত্ত মাটি রাখার উদ্বৃত্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের গর্ত ভরাট করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হলনা কেন সে বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
নাটোর জেলা প্রশাসন সুত্র জানায় যে, কোন পুকুর ভরাট বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে তা জেলা প্রশাসনের অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু ঠিকাদার বখতিয়ার তার পুকুর ভরাটের জন্য কোন অনুমতি গ্রহণ করেননি। এটা বেআইনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মনিরুজ্জামান ভুঞা বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কোন অনুমোদন গ্রহণ করেননি। আমি আপনার মাধ্যমেই জানলাম। এটা বেআইনি। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাটোর পাউবোর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেছুর রহমান বলেন, আমি রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। নাটোরের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছি। জমি দখল করার বিষয়টি তিনি জানতেন না। ওই জমি উদ্ধারে সকল আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি জমি দখল কোনভাবেই মেনে নেয়া হবেনা। নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওই জায়গা ভরাটে ঠিকাদার মীর হাবিবুল ইসলাম বা তার লোকজন আবেদন করেননি। তবে জায়গাটি ভরাট হলেও যেহেতু কোন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছেনা, সে কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ