নাটোরে বিসিকের বাণিজ্যিক প্লটে প্রভাবশালীদের আবাসন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


নাটোর বিসিক শিল্প নগরীর বাণিজ্যিক প্লট আবাসিক খাতে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শিল্পনগরীর মধ্যে আবাসনের কোন অনুমতি না থাকলেও কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
নাটোর বিসিক সূত্র মতে, নাটোরের দত্তপাড়ায় ১৯৮৭ সালে ১৫.৫৬ একর জমিতে বিসিক শিল্পনগরী নির্মাণ করা হয়। ১০৪টি প্লট ও ৪৭টি কারখানার মালিকের কাছে বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব এক-একজন মালিকের কাছে ৯৯ বছরের জন্য একটি করে ফ্যাক্টরি লিজ দেয়া হয়। এখানে রয়েছে জুট মিল প্রসাধানী সামগ্রী, হাড়িপাতিল, জুস, আচারসহ নানাবিধ কারখানা। কিন্তু বিসিক এলাকায় প্রতিনিয়িত নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠার কথা থাকলেও সেখানে নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোন রকম শিল্প কারখানা নেই অথচ পরিবার পরিজন নিয়ে আবাসিক এলাকার মতো দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন অনেকেই। আবার একই প্লটের নিচে ফ্যাক্টরিতে প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে এবং ওপরে আবাসিক ভবন করা হয়েছে। নবতি ইন্ডাস্ট্রিজের ওপরে ভবন তৈরি করে বসবাস করছেন বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি নুরন্নবী সোনার নিজেই। বিসিক অফিসের সামনে হলেও বিষয়টি দেখেও দেখেন না কর্মকর্তারা। অবৈধভাবে বসবাস করা নিয়ে সভাপতি নুরন্নবী সোনার কিছু বলতেও রাজি নন। নাটোর কেমিক্যাল নামে যে প্লট আছে সেখানে উৎপাদন বন্ধ আছে কয়েক বছর ধরে। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করা হলেও কর্তৃপক্ষের কোন প্রদক্ষেপ নেই। মৌমিতা আইসক্রিম ফ্যাক্টরির স্বত্ত্বাধিকারী আবদুল মান্নান পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। অবৈধ বসবাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পাহারাদারের কাজটা নিজেরাই করেন। তাই বসবাস করছেন। অবৈধ বসবাসকারী হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে আছেন বাগদাদ কটনসহ আরও অনেকে।
শিল্প মালিক রুহুল আমীন জানান, যেখানে জায়গা স্বল্পতার কারণে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারছে না, সেখানে বিসিকের ভিতরে বাসাবাড়ি হিসেবে বসবাস করার বিষয়টি দুঃখজনক। প্লটগুলো খালি হলে নতুন উদ্যোগতারা কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
নাটোর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইস্টাস্ট্রিজের পরিচালক শরিফুল ইসলাম রমজান জানান, বিসিকের স্টেট অফিসার দিলরুবা দিপ্তি এবং উপব্যবস্থাপক বজলুর রশীদের যোগসাজসে ও তাদের উৎকোচ দেবার মাধ্যমে শিল্প প্লটের মধ্যে বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। এটা উচ্ছেদে বিসিক কর্তৃপক্ষের কোনই পরিকল্পনা নেই। আমি এটার নিন্দা জানাই। অবিলম্বে শিল্প নগরীর অভ্যন্তরের অবৈধ আবাসিক প্লট বাতিল করার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
জানতে চাইলে বিসিকের উপব্যবস্থাপক বজলুর রশীদ জানান, বিসিকের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার কোনই নিয়ম নেই। তবে শিল্প প্লটে বসবাসের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বিসিক শিল্প নগরীর সভাপতি শাহিনা খাতুন জানান, অনেকটা স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়েই কর্মকা- চালাচ্ছে নাটোর বিসিক শিল্প নগরীর স্থানীয় কর্মকর্তারা। নাটোরে আসার একবছর হলেও বিসিক কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে পরিচয় হওয়া ছাড়া কোন আলোচনা করে নি। কোন মিটিংও করে নি। বাণিজ্যিক প্লট আবাসিক খাতে ব্যবহারের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।