নাটোরে শুরু হয়েছে অবৈধভাবে আখ মাড়াই || ক্রাশার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উকিল নোটিশ ও মামলা

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ও নাটোর সুগার মিল এলাকায় অবৈধভাবে চালিত পাওয়ার ক্রাশার (যন্ত্র চালিত আখমাড়াই কল) দিয়ে আখ মাড়াই চলছে-সোনার দেশ

নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল ও নাটোর সুগার মিল এলাকায় অবৈধভাবে চালিত পাওয়ার ক্রাশার (যন্ত্র চালিত আখমাড়াই কল) মালিকদের মধ্যে মোট দুইশ জনের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৫টি। অন্যদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সুগার মিল প্রশাসন।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) রাকিব জানান, আগামী ১৭ নভেম্বর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ২০১৭-১৮ আখ মাড়াই মৌসুম শুরু হবে। এবারে দুই লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১৮ হাজার সাতশ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মিল এলাকায় পাওয়ার ক্রাশার রয়েছে দুইশ থেকে আড়াইশটি। এবারের আখ মাড়াই মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় দেড় শতাধিক পাওয়ার ক্রাশার মালিক অবৈধভাবে আখমাড়াই শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে মিলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বিধায় ইতোমধ্যে প্রায় একশ পাওয়ার ক্রাশার মালিকের নামে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও নোটিশ পাঠানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে রাকিব দাবি করেন, নোটিশ পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, প্রশাসনের অভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এরপরও যারা ক্রাশারে আখ মাড়াই বন্ধ করবেন না তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।
অপরদিকে, নাটোর সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ জানান, ২০১৭-১৮ মাড়াই মৌসুমে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১২ হাজার ৪শ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে নাটোর সুগার মিল। আগামী ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় এই মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু ইতোমধ্যেই মিল এলাকার প্রায় ১২০টি পাওয়ার ক্রাশার মালিক আখ মাড়াই শুরু করেছেন। এ বিষয়ে প্রায় একশ জনের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আর দুই পর্যায়ে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মোট ১১টি ক্রাশার জব্দ করা হয়েছে। ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শহিদুল্লাহ দাবি করেন, কৃষকদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে ক্রাশারে আখ সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্রাশার মালিকদের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধকরণ আলোচনা, প্রশাসনের অভিযান, উকিল নোটিশ ইত্যাদি করা হচ্ছে। যারা এরপরও ক্রাশারে আখ মাড়াই বন্ধ করবেন না তাদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশসহ মামলা করার কোন বিকল্প নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ