নাটোরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০১৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ


নাটোর অফিস
নাটোরের সিংড়ায় গার্মেন্টস কর্মী স্ত্রী আসমা বেগমকে (২৩) হত্যার দায়ে স্বামী হাসানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় চারজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কাকডাংগা গ্রামের বাবা-মা হারা আসমা বেগম ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে নাটোরের সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের আনোয়ার আকন্দের ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে পরিচয় এবং বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আসমা সঙ্গে করে একটি তালাবদ্ধ ছোট কাঠের বক্স নিয়ে আসে। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অনেক চেষ্টার পরও কখনই সে এই রহস্যজনক বক্সে কি আছে তা কাউকে দেখায় নি। অবশেষে ২০১২ সালের ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৃহবধূ আসমাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে তারা। এরপর সেই বক্স খুলে দেখতে পায় সেখানে কিছুই নেই। পরে রাতেই বাড়ির পাশের বরই গাছে লাশ ঝুলিয়ে আসমা আত্মহত্যা করেছে বলে চালানোর চেষ্টা করে। প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিন প্রাং (৪৮) পুরো বিষয়টি দেখে ফেলায় তিনি এ বিষয়ে সিংড়া থানায় অভিযোগ করেন। থানা পুলিশ অপমৃত্যু মামলা করে বিষয়টি চাপা দেয়ায় পরের বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিন প্রাং পুনরায় স্বামী হাসান ও তার পিতা-মাতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নাটোর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানী ও স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রেজাউল করিম গতকাল বৃহস্পতিবার আসামির উপস্থিতিতে স্বামী হাসানের (২৫) ফাঁসির আদেশ দেন এবং অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সিরাজুল ইসলাম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী মোজাম্মেল হক মন্টু এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ