নাটোর সদর হাসপাতালের জেনারেটর ২২ বছর ধরে অচল

আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

সুফি সান্টু, নাটোর


নাটোর সদর হাসপাতালের এ জেনারেটরটি জ্বালানি সরবরাহের অভাবে ২২ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে-সোনার দেশ

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত করতে ১৯৯৫ সালে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ডিজেল চালিত জেনারেটর সরবরাহ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে জেনারেটরটি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগিদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগিদের সেবায় নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ১৯৯৫ সালের ২০ জুন ১.৫ কেভির একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর সরবরাহ করা হয়। ২শ লিটার তেলসহ বরাদ্দ পাওয়া জেনারেটরটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথম কয়েকদিন ব্যবহারও করে। পরে প্রথম অবস্থায় জেনারেটরে থাকা তেল শেষ হয়ে গেলে তা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই জেনারেটরটি অব্যবহৃত অবস্থাতেই পড়ে আছে। এটি চালু রাখতে যে পরিমাণ তেলের প্রয়োজন তা বরাদ্দ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেন নি। এর ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগিদের নানা সমস্যা সৃষ্টিসহ অপারেশন, ইসিজি, এক্স-রে সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজের ব্যাঘাত ঘটে। ফলে সেবা নিতে আসা রোগিদের দুর্ভোগ যেমন বাড়ে তেমনি অপারেশন থিয়েটারে থাকা রোগির জীবন সংশয় দেখা দেয়।
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু সাঈদ জানান, ইলেকট্রিসিটি না থাকলে অপারেশনে ব্যাঘাত ঘটে। ইসিজি করা যায় না, এক্সরে করা যায় না। ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা দিতে নানা সমস্যা দেখা দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শহরতলীর দত্তপাড়া এলাকার ফারুক হোসেন জানান, জেলা পর্যায়ের এতোবড় একটি হাসপাতালে বড় জেনারেটরটি সচল না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
নাটোর সদর উপজেলার করোটা গ্রামের রোগির স্বজন এনামুল হক লিটু জানান, জেনারেটর আছে কিন্তু তেল সরবরাহ নেই, এটা কেমন কথা? দ্রুত জেনারেটরের তেল সমস্যা সমাধানে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রদক্ষেপ নেওয়া জারুরি।
এ ব্যাপারে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত জেনারেটরটি চালু রাখতে প্রচুর পরিমান জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই তেলের বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটরটি চালু রাখা সম্ভব হয় নি। তবে অপারেশন থিয়েটারের কাজের সুবিধার জন্য নিজস্ব উদ্যোগে একটি ছোট জেনারেটর নেয়া হয়েছে। সেই জেনারেটরটি দিয়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনরকমে অপারেশন কাজ চালু রাখা সম্ভব হলেও অন্য বিভাগের কাজ চালু রাখা সম্ভব হয় না। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত হাসপাতালটির জেনারেটর সচল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ