বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নানা আয়োজনে নাটোরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

আপডেট: December 23, 2016, 12:15 am

নাটোর অফিস


বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নাটোরে পালিত হয়েছে হানাদার মুক্ত দিবস। দেশের সর্বশেষ অঞ্চল হিসেবে নাটোরে দিবসটি পালিত হয়।
গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে নাটোর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আয়োজনে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের ভবানীগঞ্জ মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে মাদ্রাসা মোড় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলির সভাপতিত্বে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন, নাটোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. সাজেদুর রহমান খাঁন। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, সাবেক সাংসদ অ্যাড. সাইফুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নাটোর পৌর সভার সাবেক মেয়র অ্যাড. কামরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তজা আলী বাবলু, নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, কাইয়ুম হোসেন ও নাটোর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান  কমান্ডের যুগ্মআহবায়ক রফিকুল ইসলাম নান্টু প্রমুখ।
এসময় বক্তরা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশে পাকসেনাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হলেও নাটোরে চারদিন পর ২১ ডিসেম্বর আসে বিজয়। একাত্তরে নাটোর ছিল পাকসেনাদের ২ নম্বর সামরিক হেডকোয়াটার। তৎকালীন সিও অফিসে (বর্তমানের ইউএনও অফিস) পাকসেনাদের  সামরিক হেডকোয়াটার স্থাপন করা হয়। ফলে ১৬ ডিসেম্বর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা যেমন বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নবাবজগঞ্জ প্রভৃতি থেকে পাকসেনারা নাটোরে এসে জড়ো হতে থাকে।  তারা নাটোর শহরের পিটিআই স্কুল, আনসার হল, রিক্রিয়েশন ক্লাব, এনএস সরকারি কলেজ, নাটোর রাজবাড়ি, দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি চত্বরে (উত্তরা গণভবন) অবস্থান নেয়। এসব ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া পাকসেনারা ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেও নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি চত্বরে আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় ২০ ডিসেম্বর গভীর রাত পর্যন্ত। ফলে ২১ ডিসেম্বর নাটোর পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ