নানা সমস্যায় জর্জরিত পার্বতীপুর রেল স্টেশন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

পার্বতীপুর প্রতিনিধি


সংস্কারের অভাবে জীর্ণ দশা প্রায় দেড় শতাব্দি পুরনো পার্বতীপুর রেল স্টেশনের-সোনার দেশ

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের সর্ববৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ জংশন পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন। প্রায় দেড় শতাব্দীর পুরনো এ স্টেশনটি জীর্ণশীর্ণ চেহারা নিয়ে আজও পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। জনদাবি থাকা সত্বেও অদ্যাবধি এ স্টেশনটির আধুনিকায়ন করা হয়নি ।
জানা যায়, ১৮৭৯ সালে বৃটিশ সরকার ১৩ হাজার ৯৪২ ফুট আয়তনের ৫টি প্ল¬াটফর্ম নিয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ ৫ বছর পরে ১৮৮৪ সালে চালু হয় এ স্টেশনটি। স্টেশনের ৪শ’ ৪৬ দশমিক ৯৭ একর আয়তনের অপারেশন এরিয়াসহ নিজস্ব ভূমির পরিমাণ ৭শ’ ৮৮ দশমিক ২৭ একর। আকার ও গুরুত্বের বিচারে এটি ছিল পূর্ব বাংলার সর্ববৃহৎ রেলওয়ে স্টেশন। এক সময় অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে আসামের গুয়াহাটি পর্যন্ত এ স্টেশন হয়ে মেইল ও মালবাহি ট্রেন চলাচল করতো। চতুর্মুখি এ রেল জংশন থেকে উত্তরে সৈয়দপুর, নীলফামারীও চিলাহাটি, দক্ষিণে জয়পুরহাট, সান্তাহার, ঈশ্বর্দী, খুলনা ও রাজশাহী, পূর্বে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, ঢাকা ও পশ্চিমে দিনাজপুর. ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় পর্যন্ত যাত্রী ও মালবাহি ট্রেন যাতায়াত করে। এ রুটের কাঞ্চন স্টেশন থেকে বিরল স্টেশন হয়ে ভারতের রাধিকাপুর ও কাটিহার দিয়ে আন্তঃদেশীয় মালবাহি ট্রেন চলাচল করে।
এক সময় এ স্টেশনের উপর দিয়ে আন্তঃনগর, মেইল ও লোকালসহ ৫৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতো। বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনসহ প্রতিদিন ৩৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও মিশ্রগেজের ৪টি রুটে চলাচল করছে। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার ট্রেন যাত্রী উঠা-নামা করছেন।
বৃটিশ আমলে বাণিজ্যিক স্বার্থে এ স্টেশনটি ব্যবহার করা হতো। পাকিস্তানের ২৩ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনামলে অবহেলা ও বৈষ্যমের শিকার হয়েছে পার্বতীপুর রেল স্টেশন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিবাহিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়নে কেউ এগিয়ে আসেননি। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশনটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হযে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, পার্বতীপুরে রয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনি, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনা নিবাস, উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম উত্তর-পশ্চিম মৎস্য সম্প্রসারণ প্রকল্প, রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা), রেলওয়ে ডিজেল কারখানা, রেলহেড অয়েল ডিপো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), মাদকদ্রব্য পণ্যাগার, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (নিপোর্ট), ডাক বিভাগের পোস্টাল মহকুমা, েেরলওয়ের হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬¬ক্স ছাড়াও বিদেশি মিশনারি দ্বারা পরিচালিত ল্যাম্ব হাসপাতালের কারণে দেশি-বিদেশী যাত্রীদের আসা যাওয়ায় জংশনটির গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ। আওয়ামীলীগ সরকারের চার মেয়াদে ৫ মন্ত্রী, ৩ সচিব ও রেলওয়ের মহা-পরিচালকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাগণ এ রেলস্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় এলাকাবাসী রেল স্টেশনের সমস্যার কথা তুলে ধরলে সংশ্লিষ্টরা শুধু উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত যাত্রী ছাউনি অধিকাংশ জরাজীর্ণ। সম্প্র্রতি জোড়াতালি দিয়ে প্লাটফর্মের সংস্কার কাজ করা হয়েছে। স্টেশনে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। প¬াটফর্মে টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। পানির জন্য হাহাকার অবস্থা ট্রেন যাত্রীদের। ২ ও ৩ নম্বর প্ল¬¬াটফর্মে মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক দুটি উচ্চ শ্রেণির হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে ভালোভাবে চলে আসছিল। স্বাধীনতার কয়েক বছর দুটি হোটেলে যাত্রীদের খাবার ব্যবস্থা ছিল। পরে হোটেল দুটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও ১নম্বর প্ল¬াটফর্মের মুসাফির খানার টয়লেট ব্যবহার করতে পারে না যাত্রীরা। পাকা টয়লেট থাকলেও হাউজ না থাকার কারণে সে টয়লেটগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ২ ও ৩ নম্বর প¬াটফর্মে যাত্রীদের বসার জায়গা নেই। বেশির ভাগ সময়ে তালাবদ্ধ থাকায় যাত্রীদের জন্য বিম্রামাগার থাকলেও বসার স্থান না পাওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের। স্টেশনের নোংরা পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলোর অভাব, বখাটে, মাদকাসক্ত ও ছিঁচকে চোরের উপদ্রবের কথা উল্লেখ করে পার্বতীপুর থেকে ঢাকাগামী একতা একপ্রেক্স ট্রেনের যাত্রী রাফসান জনি বলেন, খাবার পানি ও বসার সুব্যবস্থা নেই এখানে। আমাদের পাশের বিভিন্ন ছোট ছোট স্টেশন রি-মডেলিং হলেও পার্বতীপুর এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
রেল স্টেশনের নানাবিধ সমস্যার কথা জানতে চাইলে পার্বতীপুর রেল স্টেশন মাস্টার জিয়াউল আহসান বলেন, সমস্যা রয়েছে পর্যায় ক্রমে এসব সমস্যার সমাধানও করা হচ্ছে।