নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সার্বজনিন পারিবারিক আইন প্রণয়ন করতে হবে বিভাগীয় কর্মশালায় বক্তারা

আপডেট: মে ৪, ২০১৮, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সিডও সনদ বাস্তবায়নে সার্বজনিন পারিবারিক আইন প্রণয়ন করতে হবে। সিডও সনদের ধারা থেকে সংরক্ষণ শব্দটি বাদ দিতে হবে। সিডও সনদের দুই নম্বর ধারা ও ১৬.১ (গ) ব্যতিরেকে কখনো সিডও সনদ বাস্তবায়িত হবে না। এই ধারা দুইটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এজন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ কোটি কোটি নারী সিডও সনদের কথা জানেই না। এজন্য আলাপ-আলোচনা পাশাপাশি নারীদের সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করা জরুরি। নারীর অধিকার বাস্তবায়নে দরকার হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রকে সিডও সনদের ওই দুইটি ধারা বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ও নারীর অধিকার বাস্তবায়নে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। আইনের সংস্কার করা দরকার হলে, প্রয়োজনে আইনের সংস্কার করেই নারীর অধিকার বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর পর্যটন মোটেল মিলনায়তনে ‘জাতিসংঘ সিডও কমিটির অভিমত ২০১৬’ বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এর আয়োজন করে, স্টেপ টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট’। সহযোগিতা করে, বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন প্রচেষ্টা।
বক্তারা বলেন, সিডও সনদের ওই দুইটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য ঘরে বাইরে সর্বত্র নারীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারণ নারীর অধিকার এমনি এমনি প্রতিষ্ঠা পায় না, তা জোর করে আদায় করতে হয়। বর্তমান সরকার নারীর অধিকার বাস্তবায়নে আন্তরিক হলেও, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ও ধর্মীয় গোঁড়ামি তা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করছে। এইজন্য সচেতন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। এবং তা শুরু করতে প্রতিটি পরিবার থেকেই। কারণ পরিবারেই নারীরা বেশি লাঞ্ছিত ও অমূল্যায়ন হয়। প্রতিটি পরিবারে নারীকে মানুষ হিসেবে দেখা শিখলে সিডও সনদ বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না। আর এর মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নও ঘটবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ বেগম আখতার জাহান। বক্তব্য দেন, ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিভ সুকো ইশিকায়া, সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক রাশেদুল কবির, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ, ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম অফিসার সোহেল রানা। সভাপতিত্ব করেন, স্টেপ টুয়ার্ডসের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার। স্বাগত বক্তব্য দেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায়। পরিচালনা করেন, দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত।
‘সিডও, নারীর মানবাধিকার এবং বাংলাদেশ’ বিষয়ক পাঠ উপস্থাপন করেন, বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী। এরপর ‘বাংলাদেশের অষ্টম সাময়িক প্রতিবেদনের ওপর জাতিসংঘের সিডও কমিটি প্রদত্ত সমাপনী অভিমত’ বিষয়ক উপস্থাপন করেন, স্টেপ টুয়ার্ডসের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার। এরপর মুক্ত আলোচনা শুরু হয়। মুক্ত আলোচনায়, নারীর অধিকার বাস্তবায়নে সমস্ত বাধা দূর করে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা। এছাড়া বক্তারা সিডও সনদ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা এবং নারীর উপর নির্যাতন বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের উপর জোর দেন বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার জাহান বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই, প্রতিটি আন্দোলনেই নারীর অবদান অনস্বীকার্য। নারীই সৃষ্টির মূলমন্ত্র। এরপরও নারীরা সমাজে, রাষ্ট্রে ও পরিবারে নিগৃহিত হয়ে থাকে। নারীর নির্যাতন বন্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নারীকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছেন। কিন্তু শুধু সরকার একাই নারীর অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর মর্যাদা তুলে ধরতে কাজ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ