নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী রেলস্টেশনে ঘরমুখি মানুষ -সোনার দেশ

গোলাম সারোয়ার সুজন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে। বাড়ি নওগাঁর আত্রাই। তিনি ঈদের ছুটিতে কাল (বৃহস্পতিবার) সকালে তিতুমীর ট্রেনে সপরিবারে বাড়ি যাচ্ছেন। থাকবেন সপ্তাহখানেক। গোলাম সারোয়ার জানান, রাজশাহীতে আছি বিশ বছর ধরে। পড়ালেখা ও কর্মস্থানÑদুটোই রাজশাহীতে। তারপরও ঈদে বাড়ি না গেলে মন কেমন লাগে। আর তাছাড়া বাবা-মা থাকেন গ্রামের বাড়িতে। তাই অন্য কোনো সময় বাড়িতে যাওয়া না হলেও ঈদে বাড়ি যাই। এই সময়টা আত্মীয়-পরিজনসহ গ্রামের মানুষদের সাথে কাটাতে বেশ ভালো লাগে।
আতিকুর রহমান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। তার বাড়ি বরগুনার জেলার একটি গ্রামে। দূরে বাড়ি হওয়ায় বছরে তিনি শুধু দুই ঈদে বাড়ি যান। অন্য সময় যান না। কাল (বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন তিনি। তিনি জানান, বহু সময় নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকি। ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য। অন্য সময় খুব একটা যাওয়া হয় না। গেলেও তেমন থাকা হয় না। ঈদে ছুটি বেশি থাকায় বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দটা উপভোগ করা যায়।
শুধু গোলাম সারোয়ার কিংবা আতিকুর রহমান না, এমনি হাজার হাজার মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে ঈদে বাড়ি ফিরছেন। গতকাল বুধবারও রাজশাহী রেলস্টেশন ও বাসটার্মিনাল থেকে শত শত যাত্রী ট্রেনে ও বাসে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। যদিও যানবাহন স্বল্পতার কারণে টিকেট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারপরও কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছে মানুষ। এর মধ্যে যারা টিকেট পেয়েছেন তারা তো সোনায় সোহাগা। তাদের ঈদের আনন্দের সঙ্গে ঈদ যাত্রার আনন্দও যুক্ত হয়েছে।
রাজশাহী কলেজের ছাত্র ইয়ামিন। বাড়ি দিনাজপুরে। রাজশাহীতে টিউশনি করে চলেন। গতকাল বিকেল ৩টার ট্রেনে বরেন্দ্র এক্সপ্রেসে করে দিনাজপুর গেছেন। টিকেট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে টিকেটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বললেন, সিট না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সিট না পেলেও টিকেট কাটবো। দাঁড়িয়ে হলেও বাড়ি যেতে হবে। কারণ বাড়ি ছাড়া ঈদ করতে আমার মন সায় দেয় না। আর মেসও বন্ধ।
ওইদিন বিকেলের ট্রেনে জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এক সপ্তা আগেই টিকেট কেটে রেখেছিলাম। তাই সিট পেয়েছি। স্ত্রী-পুত্র ও কন্যা নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি। এইজন্যই আগে টিকেট কেটেছি।
আগামি ১৬ কিংবা ১৭ তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এরই মধ্যে নগরী প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। আজ ও কাল যাবেন আরো অনেকেই। যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শহরে যাদের জন্ম কিংবা গ্রাম থেকে এসে শহরে আবাস গেড়েছেন তারাই শুধু শহরে রয়েছেন। তবে শুধু বাড়ি ফিরলেই তো হবে না। যারা ঢাকা থেকে কিংবা আরো দূরের কোনো শহর থেকে রাজশাহী ফিরেছেন কিংবা ফিরবেন তাদের উপর বাড়তি ঝামেলা রয়েছে ফেরার টিকেট ক্রয় করা নিয়ে। যেভাবেই হোক বাসায় তো পৌঁছেছেন। এখন তো আবার ফিরতে হবে। তাইতো আবার সেই লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে ট্রেনের জন্য টিকেট কাটা।
গতকাল রাত ৯টায়ও দেখা গেলো ট্রেনের ফিরতি টিকেট কাটার জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের। রাত ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন পরেরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় টিকেট কাটার জন্য। ওইদিন ট্রেনের ফিরতি টিকেট দিবে ২৪ তারিখের।
টিকেট কাটার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ইয়াকুব আলী। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তিনি এসেেেছন তার ভাই-ভাবী ও বাচ্চার জন্য ট্রেনের ফিরতি টিকেট কাটতে। তারা ঢাকায় থাকেন। ঈদ করতে বাড়ি আসছেন। তিনি জানান, ভাই-ভাবী ও বাচ্চা মিলে পাঁচটা টিকেট কাটতে হবে ২৪ তারিখের। চারটা ফুল একটা হাফ। ভাই ঢাকায় রয়েছেন। শুক্রবার পৌঁছুবেন। তাই আমাকেই এসেছে টিকেট কাটতে হচ্ছে। সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবো। দেখা যাক, টিকেট পাওয়া যায় কি না।