নি¤œগতির প্রবাসী আয় দিয়ে শেষ হলো ২০১৮-১৯ অর্থবছর

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৯, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দিয়ে শেষ হলো ২০১৮-১৯ অর্থবছর। শেষ মাস (২০১৯) জুনে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস এক দশমিক ১৭ শতাংশ। শুধু তাই নয়, প্রবাসীদের পাঠানো টাকার অঙ্কও কমে গেছে। ২০১৮ সালের জুনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৩৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এক বছর পর ২০১৯ সালের জুনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৩৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মনে করা হয় বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সকে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তাদের পাঠানো অর্থের অবদান প্রায় ১২ শতাংশের মতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ জুন শেষ হওয়া এই অর্থবছরে (২০১৮-১৯) এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বাংলাদেশ রেমিট্যান্স থেকে আয় করেছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি কোটি ১৬ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগে, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। তবে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, একক মাস হিসাবে গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মে মাসে। গত মে মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ২ শতাংশ হারে প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে এক হাজার টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা হিসেবে ২০ টাকা পাবেন প্রবাসীরা। বাজেটে প্রণোদনা হিসেবে চলতি অর্থবছর প্রবাসীদের জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্সে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাস হিসাবে জুনে রেমিট্যান্স কম আসলেও আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি আসতে শুরু করেছে।’ নতুন বাজেটে প্রণোদনা দেওয়ায় এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৩১ কোটি ৮১ লাখ ডলার। দ্বিতীয় মাস আগস্টে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১৪১ কোটি ১০ লাখ ডলার। তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। অক্টোবরে এসেছে ১২৩ কোটি ৯১ লাখ ডলার। নভেম্বরে এসেছে ১১৮ কোটি ৪ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে এসেছে ১২০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে এসেছে ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। মার্চে এসেছে ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এপ্রিল মাসে এসেছে ১৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। প্রবাসীরা মে মাসে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার। শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৩৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ৮টি দেশ হলো যথাক্রমে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, ওমান ও কাতার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসা এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের মধ্যে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১১ কোটি ৪ লাখ ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ২৫৪ কোটি ৪ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৮২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। ওমানে থাকা প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং কাতারে থাকা প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।