বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নিজ বাড়িতে রেখেই প্রবীণদের সেবা, হচ্ছে ফাউন্ডেশন

আপডেট: December 10, 2019, 1:29 am

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রবীণ কল্যাণ নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করবে সরকার। এজন্য প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইনের খসড়া করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
খসড়া আইন অনুযায়ী, ফাউন্ডেশন প্রবীণদের নিজ নিজ বাড়িতে রেখেই তাদের সেবা-যত্নের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য কর্মক্ষম প্রবীণদের উপযুক্ত কর্মে নিয়োগ এবং তাদের জন্য সম্ভাব্য কর্মসৃজন ও প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রবীণদের জন্য ইউনিভার্সল সোশ্যাল পেনশন (ইউএসপি) চালুসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইনের খসড়া করেছি আমরা। খসড়াটি আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের জন্য পাঠিয়েছি। নানা প্রক্রিয়া শেষ করে এটি চূড়ান্ত করতে বছরখানেক তো লেগেই যাবে।’
তিনি বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের সমাজ ও সভ্যতার অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্র্যমুক্ত, কর্মময়, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ সামাজিক জীবন নিশ্চিতে ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ করা হয়েছে। সরকার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ এবং সিভিল ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক সনদ যথাক্রমে ১৯৯৮ ও ২০০০ সালে অনুসমর্থন করেছে। তাই প্রবীণ নীতিমালা, আন্তর্জাতিক সনদ অনুসমর্থন বাস্তবায়নের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। তাই ‘প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৬০ বছর এবং এর বেশি বয়সী ব্যক্তিরা প্রবীণ হিসেবে স্বীকৃত হবেন। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ, কষ্টের তীব্রতা সহ্য করে যে মানুষটি সন্তানের জন্ম দেন, তিনিই মা। বাবাও যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করেন না, এমন নয়! জীবনের সবটুকু দিয়ে সন্তানকে মানুষ করেন। কিন্তু সেই সন্তানরা কি বাবা-মাকে শেষ বয়সে এসে মনে রাখেন? সন্তানকে শিক্ষিত করতে গিয়ে জীবনের সবটুকু অর্জন বিলিয়ে দিয়ে একসময় ঘরের বোঝা হতে হয় তাদের! সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করে বিনিময়ে অনেকেরই ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রবীণ কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর উদ্দেশ্য তুলে ধরে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্র্যমুক্ত, কর্মময়, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ব্যক্তিগত/পারিবারিক/সামাজিক জীবন-যাপন নিশ্চিতে প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠন ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
ফাউন্ডেশনের কার্যাবলি সম্পর্কে খসড়ায় বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ফাউন্ডেশন প্রবীণদের সরকার ঘোষিত সুবিধাদি নিশ্চিত করবে। কমিউনিটি অ্যাপ্রোচে প্রবীণদের নিজ নিজ বাড়িতে রেখেই তাদের সেবা-যত্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে দেশের প্রতিটি জেলায় এক বা একাধিক প্রবীণ নিবাস বা আবাসন নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ বা এ কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেবে। প্রবীণদের রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের উদ্যোগ গ্রহণ এবং কম মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে।
প্রবীণবান্ধব ব্যায়ামাগার, নার্সিং ও থেরাপি সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা দেয়া। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাঠ্যক্রম ও ব্যায়ামচর্চা প্রবর্তন। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোতে জেরিয়াট্রিক মেডিসিন (বার্ধক্যজনিত রোগ) বিভাগ, লংটার্ম কেয়ার, ইন্টিগ্রেটেড কেয়ার ও পেলিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ফাউন্ডেশন।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ