নিতাইগঞ্জে সয়াবিন তেলের দাম আরো বেড়েছে

আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৮, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


শীত মৌসুমের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজারে সয়াবিনসহ সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল। বর্তমানে সয়াবিন তেলের দামে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরো তেজি হয়েছে। দুই মাসের ব্যবধানে দুদফায় পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ টাকা বেড়েছে। শীতকালে পাম অয়েলের ব্যবহার কমে যাওয়ার জের ধরে সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়েছে। সে তুলনায় সরবরাহ খুব একটা বাড়েনি। এ কারণে পণ্যটির দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে প্রতি কেজি সিটি সয়াবিন তেল ৮৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক মাস আগেও পণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮৪ টাকা। আর নভেম্বরের শুরুতে প্রতি কেজি সিটি সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল ৮২ টাকায়। সে হিসাবে দুই মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪ টাকা। শীত মৌসুমে ব্যবহার কমলেও সুপার কোয়ালিটি পাম অয়েলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। গতকাল স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি সুপার কোয়ালিটি পাম অয়েল বিক্রি হয় ৭৭ টাকায়। এক মাস আগেও পণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা। আর নভেম্বরের শুরুতে প্রতি কেজি সুপার কোয়ালিটি পাম অয়েল বিক্রি হয়েছিল ৭৩ টাকায়। সে হিসাবে দুই মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়েছে। তবে সাধারণ মানের পাম অয়েলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এদিন পণ্যটি কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় বিক্রি হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে পাম অয়েল জমাট বেঁধে যায়। এ কারণে প্রতি বছরই শীতকালে ক্রেতারা পণ্যটি কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। পণ্যটির বেচাকেনা কমতে শুরু করে। এবারো শীত শুরুর পর থেকে পাম অয়েলের বেচাকেনায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে সাধারণ মানের পাম অয়েলের বেচাকেনা। তবে চাহিদা যেই পরিমাণে কমেছে, তার চেয়েও বেশি কমেছে পণ্যটির আমদানি ও সরবরাহ। এ কারণে সাধারণ মানের পাম অয়েলের দাম স্থির থাকলেও সুপার কোয়ালিটি পাম অয়েলের দামে তেজিভাব বজায় রয়েছে। বেড়েছে সয়াবিন তেলের দামও।
নিতাইগঞ্জের ভোজ্যতেল বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠান গোপীনাথ ভা-ারের স্বত্বাধিকারী নারায়ণচন্দ্র সাহা জানান, বিগত ছয় মাস ধরে সয়াবিন তেলের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। সে সময় প্রতি কেজি সয়াবিন তেল ৬৮-৭০ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়েছিল। বাজারে বেচাকেনাও ছিল তুলনামূলক কম। তবে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে। বদলে যায় বাজার পরিস্থিতি। এরপর দুই দফায় প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৮৬ টাকায়।
বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড অয়েল মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শংকর সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, পাম অয়েলের চাহিদা কমলে ক্রেতারা বিকল্প পণ্য হিসেবে সয়াবিন তেল বেশি কেনেন। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজারে। সয়াবিন তেলের চাহিদা বাড়লেও সে তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি। এ কারণে পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরো তেজি হয়েছে। শীত শেষে চাহিদা কমে এলে সয়াবিন তেলের দামও তুলনামূলক কমতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৮৫-৮৮ টাকায়। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১০৪-১০৯ টাকায়। ২০১৬-১৭ সালের একই সময়ে পণ্যটির দাম ছিল লিটারপ্রতি ৯৮-১০২ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে লিটারে সর্বোচ্চ ৯ টাকা। গত এক মাসে প্রতি লিটার পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৭০-৭২ টাকায়। পাইকারি বাজারে এসব ভোজ্যতেলের দাম ছিল আরো কম। সে হিসাবে নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজারে এ সময় সয়াবিন তেল ও সুপার কোয়ালিটি পাম অয়েল বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।