বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন ভবিষতের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকলো

আপডেট: January 20, 2020, 12:54 am

পূজার দিনে ভোট না করার জোরাল দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন নির্বাচন কমিশন। ঢাকা সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। পুনর্নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি। শনিবার সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় নতুন তারিখ ঠিক করা হয়। ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন রেখে গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পুজার দিন হওয়ায় তফসিল ঘোষণার পরপরই তার বিরোধিতা করেছিল পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানায়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং আন্দোলনও দানা বেঁধে উঠে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও আন্দোলকারীদের দাবিকে সমর্থন জানায়। কিন্তু বিষয়টি কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছিল না নির্বাচন কমিশন। ভোটের তারিখ পরিবর্তনে হাই কোর্টে রিট আবেদন হলে তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ইসি ৩০ জানুয়ারি ভোট করার বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থান নেয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশন শুরু করলে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কর্মসূচি ঘোষণা করলে ভোটের দিন বদলের দাবি জোরাল হয়ে ওঠে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেন যে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা এ ব্যাপারে তাদের সাঁয় দেন। ফলে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়।
তবে নির্বাচনের এই তারিখ পরিবর্তনের ফলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষা সময়সূচিতেও পরিবর্তন হয়। একইভাবে ঐতিহ্যবাহী বই মেলার তারিখ পরিবর্তন করতে হয়। ১ ফেব্রƒয়ারির জায়গায় সেটি ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।
ধর্মীয় বিষয়গুলো বাংলাদেশে অবশ্যই খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়টি সবচেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়। এবং এ সুযোগটি অনেক সময় করেও দেয়া হয়। সরস্বতী পুজার দিন নির্বাচন দিয়ে সেই সুযোগই করে দেয়া হয়েছিল। তারিখ পরিবর্তিত না হলে ইতোমধ্যেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে শুরু করছিল স্বার্থান্বেষী মহল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরস্বতী পুজার দিনই নির্বাচনের তারিখ করতে হলো কেন? নির্বাচনী তফসিল কিংবা সরকারি যে কোনো কর্মসূচি নেয়ার সময় এসব বিষয় বিবেচনা করা হয় না কেন? এটা কি শুধুই উদাসীনতা? নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবির আন্দোলনটি একটা শিক্ষাও হলো বটে। আমরা আশা করবো পরবর্তী সময়ে কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা যাতে বজায় থাকে। তাতে অনেক অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ