নির্বাচনে যেতে বিএনপির শর্ত

আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


আগামী একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না, তা নির্ভর করছে দলটির নেত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ওপর।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ শর্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেটি হতে দেবে না। তাই গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়েই দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’
‘আন্দোলনে বেগম জিয়ার মুক্তি হলে আইনের কি দরকার? খালেদা জিয়ার মুক্তির ওপর নির্ভর করছে আমরা নির্বাচনে যাব কি না’, বলেন বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মাসের পর মাস নেতাকর্মীদের কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। নিম্ন আদালতে জামিন দিতে পারবে না, এ কথাটা বলার জন্য যে শুনানি তার জন্যও ছয় মাস, আট মাস পর তারিখ দেওয়া হয়। শুনানির আগেই আমাদের নেতাকর্মীরা মাসের পর মাস জেল খাটছেন।’
‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম খান দেশের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ‘যারা আমাদের বন্ধুরা আছেন, যাদের বয়স আছে, যাদের সাহস আছে, তারা সবাই প্রস্তুতি নিন। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনই আমাদের পথ।’
অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন- এটাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। সেই আন্দোলনের মাধ্যমেই পতন ঘটবে স্বৈরাচার সরকারের।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
‘আপিল বিভাগ ঈদেরও পরে একটা তারিখ দিয়েছে। অর্থাৎ এর আগে দেশনেত্রী কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ থাকল না। এতদিন লাগবে কেন? এটা বোঝা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য খুব দুস্কর। আমরা এতটুকু বুঝি যে, সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়েছে যারা খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখতে চায়। তাদের সন্তুষ্ট করার দায়িত্ব তো দেশের উচ্চ আদালতের নাই। আমরা তাদের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করি।’
তিনি বলেন, ‘এত নিপীড়ন-নির্যাতন তো মুক্তিযুদ্ধের আগেও হয়নি। তার পরেও আমরা লড়াই করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কারণ, সেই সময়ও আমার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। আমরা সেই গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতেই লড়াই করেছিলাম।’
বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজকে শেয়ার মার্কেট লুট হয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরিতে দুর্নীতির ছড়াছড়ি। পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়- বাংলাদেশের এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে যত ব্যয় হয় আশেপাশের কোনো দেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেও এত খরচ হয় না।’
তিনি বলেন, ‘বাজেট বাড়লেও দুই-চার কোটি টাকা না, শত শত কোটি টাকা বাড়ে। সুইস ব্যাংকে লাখ লাখ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। এত লেখালেখি হচ্ছে সরকার কেন অনুসন্ধান করে না? কারণ, অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে, যারা টাকা পাঠায় তারা ক্ষমতাসীন দলের লোক।’
নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশের এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রয়োজন। যাদের বয়স আছে, সাহস আছে, তারা প্রস্তুতি নিন। শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রিক আন্দোলনই আমাদের পথ। এতে আমরা সারা দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করব।’
আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ফরিদা মনি সহিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডা. কাজী মনিরুজ্জাম মনির প্রমুখ।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি