নির্মিত হচ্ছে ভাসমান নগরী!

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৯, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জাতিসংঘ ওশেনিক্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ভাসমান নগরী নির্মাণ করতে যাচ্ছে। গবেষকদের দাবি এই নগরী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উপকূলীয় শহরগুলোকে ক্ষতিকর বন্যা থেকে রক্ষা করবে। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এক্ষেত্রে জাতিসংঘকে সহায়তা করবে বলে জানা গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সমুদ্র উপকূলীয় অনেক এলাকা বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। উষ্ণতার কারণে উত্তর মেরুর বরফ গলে বিশ্বের বড় শহরগুলোর নব্বই শতাংশ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ এখন সমুদ্রে ভাসমান কিছু নগরী নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে।
জাতিসংঘের ইউএন-হ্যাবিটাট এ বিষয়ে ওশেনিক্সের সঙ্গে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে থাকছে দি এক্সপ্লোলার্স ক্লাব নামের একটি প্রফেশনাল সোসাইটি। ইউএন-হ্যাবিটাট-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাইমুনা মোহাম্মদ শরীফ বলেন, যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে ও বিশ্বের বিভিন্ন নগরীর বস্তিতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তাই সমুদ্রে এই ধরনের ‘ভাসমান নগরী’ হতে পারে সম্ভাব্য সমাধান।
এই লক্ষ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি প্রটোটাইপ ভাসমান নগরী নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ের পাশে ইস্ট রিভারে নির্মাণ করা হবে ওই ভাসমান নগরী। সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভাসমান এই নগরীতে নিজেদের উৎপাদিত খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে বলে জানিয়েছে ওশেনিক্স।
ইতিমধ্যেই প্রকল্পটি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বৈরী আবহাওয়া, যেমন- ঝড় ও বন্যায় কী অবস্থা হবে ভাসমান নগরীর এবং এই নগরী কি শুধুমাত্র ধনীদের জন্যই নির্মিত হচ্ছে কি না? সমুদ্রে ভাসমান এই নগরী যেন বৈরী পরিবেশে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে, সে জন্য পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সমুদ্র প্রকৌশল এসব বিষয়ে পরিপূর্ণ গবেষণা হচ্ছে কি না? ভাসমান এই নগরী যে শুধুমাত্র সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে তা নয়, এই প্রকল্পের সুফল স্থলভাগের নগরীগুলো ভোগ করবে বলে জানিয়েছেন নোবেল পুরস্কার পাওয়া অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজ। তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল