বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নিয়োগপত্র পাবেন পরিবহন শ্রমিকরা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

আপডেট: November 28, 2019, 1:07 am

চালক কিংবা তার সহকারীরা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র পেয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, তারা চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সবরকম সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু গণপরিবহনের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে উল্টো। তারা মৌখিক চুক্তিতে মালিকদের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। এতে করে তাদের মধ্যে লিখিত কোন নিয়োগপত্র না থাকার কারণে অনিশ্চিতভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। দুর্ঘটনায় পড়লে মালিক-শ্রমিকরা কেউ দায় নিতে চায় না। ফলে অনেক সময় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। হঠাৎ করে মালিকরা শ্রমিকদের কাছ থেকে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে রাখেন। এতে করে পরবর্তীতে আইনের লড়াইয়ে ক্ষেত্রে শ্রমিকদের তখন করার কিছু থাকে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে তাদের যৌক্তিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অন্যদিকে নিয়োগপত্র প্রদান করলে চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী মালিক পক্ষ তাদের শ্রমিকদের পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নিতে পারেন। এতে করে মালিকদের কাছে শ্রমিকদের জবাবদিহিতাও থেকে যায়। তাই দীর্ঘদিন পরও হলেও পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয় দুই পক্ষ। সভায় এখন থেকে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মালিক পক্ষ, অন্যদিকে নিয়োগপত্র নিয়ে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন সড়ক পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ তহবিল বোর্ডের কার্যক্রমের বিষয়ে এই সভার আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সেখানে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিকে ডাকে সংসদীয় কমিটি। এর ফলে নিয়োগপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শ্রমিক মালিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ১৯৮৩ সালে করা সড়ক আইনে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এত দিন ধরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আর নিয়োগ পত্র দেয়া নেয়া কার্যকর না হওয়ার জন্য এতদিন ধরে এক পক্ষ অপর পক্ষকে দুষছিলেন।
নিয়োগপত্র কার্যকরের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানোনো উচিত। কারণ নিয়োগপত্র দেওয়াটা তো খারাপ কিছু না। একজন মালিক যখন একজন ড্রাইভারকে গাড়ি দেবে তখন শর্তে গাড়ি দিচ্ছে, লাভ-ক্ষতি কী, রক্ষণাবেক্ষণ কি শর্ত এসব উল্লেখ করে একটা নিয়োগপত্র দেওয়া যায়। তবে ড্রাইভাররা তো এসব বোঝে না। তারা জানে খালি সকালে এসে গাড়ির চাবি নিয়ে যাবে বিকেলে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিয়ে গাড়ি জমা দিয়ে চলে যাবে। এখানে অনিয়মগুলো এমনভাবে চর্চা করা হয়েছে যে নিয়মকে এখন অনিয়ম মনে করা হয়। এই অবস্থার নিরসনে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
নিয়োগপত্র কার্যকর না হওয়ার দীর্ঘদিন অধিকার বঞ্চিত হয়ে আসছিল শ্রমিকরা। মালিকরা ইচ্ছা মত চাকরি দিত আবার ছাঁটাই করতো। শ্রমিকরা তাদের যৌক্তিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন এই আইনের ফলে শ্রমিক আইন অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা পাবে। এতদিন তারা শ্রম আদালতে যেতে পারতো না। এখন সে সুবিধাও পাব। তাই এই বিষয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ