নেসকোর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হলো বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ কতটুকু সন্তুষ্ট হলেন?

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৮, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

বুধবার (৪ জুলাই) দুপুরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সম্ভবত রাজশাহীতে নেসকোর এটাই প্রথম গণশুনানি। এই গণশুনানির সংবাদ দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী গণশুনানিতে গ্রাহকরা নেসকোর সেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই পূর্বের মাসের চেয়ে ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে। এই বিল কীভাবে প্রদান করা হবে তা নিয়ে দুঃচিন্তায় গ্রাহকরা। এছাড়া মিটার রিডিংয়ের পরিমাপও মিটারে থাকা ইউনিটের চেয়ে বেশি দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও অভিযোগ করা হয়েছে, নগর জুড়েই রয়েছে বৈদ্যুতিক অব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার ও লোডশেডিং। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের গাফেলতির কারণে প্রায়ই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে নগরী।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেছেন, কোনো অনায্য বিল তৈরি হয়নি। মিটার রিডিংয়ের ভুল তথ্যের কারণে এমনটা ঘটছে। এমনকি ইউনিট জমে জমে একসাথে সব বিল করায় মনে হচ্ছে অনেকটা টাকা বিল এসেছে। যদিও সেটা গ্রাহকরাই খরচ করেছেন। আর নগরীতে বিদ্যুতের কোনো লোডশেডিং নেই। যেটুকু বিদ্যুতের সঙ্কট তৈরি হয় তা হচ্ছে ইন্টারাপশন বা যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে গ্রাহকদের সেবা নিয়ে অভিযোগ, তাদের ক্ষোভ ও আবেগ নেসকো অধিকর্তাদের কাছে গুরুত্ব কিংবা ক্ষোভ প্রশমনে গ্রাহকদের খুব একটা আশ্বস্ত করা গেছে বলে মনে হয়নি। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, তা হলে কেন এই গণশুনানি? গণশুনানি গ্রাহককে আশ্বস্ত করতে না পারলে এটা কোনো গুরুত্ববহন করে কি?
নেসকোর ভাষ্য, ‘মিটার রিডিংয়ের ভুল তথ্যের কারণে এমনটা ঘটছে (বিল বৃদ্ধি)। এমনকি ইউনিট জমে জমে একসাথে সব বিল করায় মনে হচ্ছে অনেকটা টাকা বিল এসেছে।’ নেসকোর শেষের যুক্তি মেনে নিলেও প্রশ্ন থাকে যে, এর দায় সেবাগ্রহিতা নিবে না সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নিবে? বিদ্যুতের প্রান্তিক গ্রাহক যারা আছেন তাদের জন্য ‘ইউনিট জমে জমে একসাথে সব বিল’ মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে যা পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে নির্মমভাবে মেটাতে হয়। এই জায়গাটায় নেসকো সহানুভুতিশীল না হয়ে একেবারে সোজাসাপটা দায় সেরেছে। আমরা মনে করি এতে গণশুনানির উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করেছে। মিটার রিডারগণ সরেজমিন যান না- এর জন্য বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে তার প্রয়োগ হয় না কেন? কর্তৃপক্ষকে বলতে হচ্ছে, রিডাররা যাতে স্পটে গিয়ে রিডিং নেয় তার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ রিডারদের কাজ মনিটরিং হয় না। ফলে তারা মনগড়া বিল করে থাকে। আর তার দায়-বোঝা সম্পূর্ণরূপে গ্রাহকদের নিতে হয়। আর যান্ত্রিক ত্রুটির কথা গ্রাহকরা লাগাতার শুনেই আসছেন কিন্তু এর কোনো সমাধান হচ্ছে না। গ্রাহকরা তো এসব সমস্যার সমাধান চায়, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা পেতে চায়। গ্রাহকরা নেসকোর কাছে এই নিশ্চয়তার অগ্রগতি সম্পর্কেই জানতে চায়। যার উত্তর গণশুনানিতে পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ