নয় মাসে রেলের এডিপি বাস্তবায়ন ১৯%

আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


রেলপথ উন্নয়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় বরাদ্দ রাখছে সরকার। চলতি অর্থবছর এ খাতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে অর্থবছরের নয় মাসে মাত্র ১৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে মন্ত্রণালয়। ফলে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এডিপি বাস্তবায়নেও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রেলপথ।
রেলপথ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান বেশকিছু প্রকল্প আটকে থাকায় এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রেলপথ বিভাগ। কয়েকটি প্রকল্প শুরু হলেও দাতা সংস্থার সঙ্গে ঋণচুক্তি আটকে থাকা, ভূমি অধিগ্রহণজনিত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে না পারা এবং কোচ ও ইঞ্জিন আমদানিতে কয়েকটি প্রকল্পের নকশাগত ত্রুটিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এডিপি’র ৬৩ শতাংশই পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ প্রকল্পের। এডিপির প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকাই এই সেতুর। মূলত ঋণচুক্তির কারণেই এ অর্থ ব্যয় করতে পারেনি রেলওয়ে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে কাজ শুরু হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার অনেক বেড়ে যাবে। রেলওয়ের অন্য প্রকল্পগুলো চলমান রয়েছে। অর্থবছরের শেষার্ধে কাজের অগ্রগতি বাড়লে এডিপি বাস্তবায়নের হারে রেলওয়ে এগিয়ে যাবে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর সংশোধিত এডিপি নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে রেলপথের উন্নয়নে প্রকল্প সাহায্য ও নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট ১০ হাজার ৮১৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট এডিপির ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও বেশ পিছিয়ে রয়েছে এ মন্ত্রণালয়। জুলাই-মার্চ সময়ে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে মন্ত্রণালয়টি। প্রথম নয় মাসে সব মিলিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৪ হাজার ১১৭ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৭৫৩ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে নিজস্ব অর্থায়নের ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।
রেলওয়ের হাতে বর্তমানে যেসব প্রকল্প রয়েছে, তার মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ, ৩০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্প, ১০ সেট ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) সংগ্রহ প্রকল্প, ৭০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্প, সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ আধুনিকায়ন প্রকল্প, পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ, ৫০টি বিজি ও ৫০টি এমজি ক্যারেজ পুনর্বাসন, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন ও বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, ১০০টি এমজি যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন প্রকল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রেলের একাধিক ট্র্যাক পুনর্বাসন ও কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিং সিস্টেম নিয়ে বেশকিছু প্রকল্প রয়েছে, যা বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত শ্লথ।

রেলওয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, তার মধ্যে দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বললেই চলে। প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও কাজ যথাসময়ে শুরু না হওয়ায় এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীনে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বাড়াতে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে মিয়ানমারের গুনদুম সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে পাস হয় ২০১০ সালের ৬ জুলাই। শুরুতে সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালে পরিচালিত এক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। বাকি ৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকার অর্থায়ন করছে সরকার। প্রকল্পের অর্থছাড় শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ