পতাকার গর্বিত ফেরিওয়ালা

আপডেট: ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ



গত ১৬ ডিসেম্বর সারেদেশে পালিত হলো মহান বিজয় দিবস। উদিত হয় লাল-সবুজ সূর্য। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় প্রিয় স্বদেশ। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। গর্বিত বাঙালি সেই থেকে পালন করে আসছে মহান বিজয় দিবস।
বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। পথে পথে পত পত করে ওড়ে লাল-সবুজের পতাকা। বিভিন্ন স্থাপনা সাজানো হয় বিজয়ের রঙে। মানুষের পোশাকেও আসে পরিবর্তন। লাল-সবুজ রঙে সাজেন দেশপ্রেমিক শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা।
ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে শহরের অলি-গলি ঘুরে বেড়ান একদল মানুষ। যাদের আমরা বলি ‘পতাকার ফেরিওয়ালা’। একসময় শুধু শহরে তারা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ছড়িয়ে পড়েছেন গ্রাম-গঞ্জেও।
তেমনই কয়েকজন পতাকার ফেরিওয়ালার সঙ্গে দেখা হয় বিজয় দিবসের প্রাক্কালে। রাজধানীর বাড্ডা এলাকার আব্দুল্লাহবাগ থেকে উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত বিভিন্ন গলিতে দেখা হয় তাদের সঙ্গে। সবার কাঁধে পতাকাশোভিত বাঁশ। বাতাসে উড়ছে মুক্তির নিশান। ব্যাগে মাথার ব্যান্ডানা, হাতের ব্রেসলেট বা রিস্টব্যান্ড এবং কাগজের পতাকা ইত্যাদি।
কথা হয় ভৈরবের নুরুল হকের সঙ্গে। বাড্ডার রতœগর্ভা ফরিদা জামান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পতাকা বিক্রি করছেন তিনি। কথাপ্রসঙ্গে তিনি জাগো নিউজকে জানান, দেশের পতাকা বিক্রি করে তিনি গর্বিত। ভালোবাসার টানেই ডিসেম্বর এলে পতাকা বিক্রি করেন। লাভ-লোকসানের হিসেব করেন না। বিক্রি না হলে রেখে দেন। কারণ এগুলো নষ্ট হয় না।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার জয়নাল আবেদিন শুধু পতাকা বিক্রি করতে এসেছেন ঢাকায়। তিনি জানান, মাত্র ১০ দিন পতাকা বিক্রি করেন তিনি। বাকি সময় অন্য কাজ করেন। পতাকা বিক্রি করতে করতে শিবচর থেকে ঢাকায় চলে এসেছেন। কালই আবার চলে যাবেন।
নুরুল হক কিংবা জয়নালের মতো অনেকেই এ শহরে পতাকা বিক্রি করেন। প্রায় প্রত্যেকেই ডিসেম্বর এলেই পতাকা বিক্রি করেন। সবাই গর্বিত পতাকা বিক্রি করতে পেরে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই তারা এ কাজ করছেন।