পত্নীতলায় আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

পত্নীতলা প্রতিনিধি


পত্নীতলায় ধান কাটছেন আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিকরা-সোনার দেশ

বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে অবদান বাড়ছে আদিবাসী নারীদের। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার আদিবাসী নারী অন্যের আবাদি জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। তবে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আদিবাসী এসব নারী শ্রমিকরা জানান, বংশ পরম্পরায় তারা কৃষিকাজ করে আসছেন। আদিবাসী নারীরা অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় প্রধান পেশা হিসেবে কৃষিকাজকে বেছে নিয়েছে। দক্ষতার সঙ্গে কাজ করায় কৃষিকাজে নারী শ্রমিকদের চাহিদাও রয়েছে। পুরুষদের চেয়েও নারী শ্রমিকরা ভাল কাজ করলেও নারীদেরকে মজুরি প্রদান করা হয় তুলনা মূলক কম। একজন পুরুষ শ্রমিক সমান কাজ করে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেলেও, নারী শ্রমিকদের দেয়া হয় ১২০ থেকে ১৬০ টাকা মাত্র।
পত্নীতলা ইউপি সদস্যা ও আদিবাসী নারী নেত্রী দিনোমণি তিগ্যা বলেন, এ আদিবাসীরা বরেন্দ্র অঞ্চলের জঙ্গল পরিস্কার করে সব জমিকে ফসলি জমিতে পরিণত করেছে। ধানসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসল উৎপাদনে আদিবাসী শ্রমিকদের অবদান রয়েছে সব চেয়ে বেশি। অথচ এই আদিবাসী শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে ঠকানো হয়। আদিবাসী নারীরা দীর্ঘ কাল ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি বলেও জানান তিনি। এসময় আদিবাসী নারীদের কৃষি শ্রমিক সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানসহ ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কোষাধ্যাক্ষ ও পত্নীতলা উপজেলা আদিবাসী পরিষদ শাখার সভাপতি সুধীর তির্কী বলেন, আদিবাসীদেরকে সর্ব প্রথম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। এছাড়া আদিবাসী নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ তাদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মমতাজ উদ্দিন জানান, আমাদের উপজেলায় মোট আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে ৩১ হাজারেরও বেশি, এদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার জন।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ প্রকাশ চন্দ্র সরকার জানান, আদিবাসী নারীদের মাধ্যমে নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষেরা নিখুঁত ভাবে কৃষি কাজ থাকেন। তবে, পুরুষদের তুলনায় আদিবাসী নারীরা সমান কাজ করেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।