পত্নীতলায় নবাগত ইউএনও সঙ্গে মতবিনিময় সভা

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ

পত্নীতলা প্রতিনিধি


নওগাঁর পত্নীতলায় নবাগত ইউএনও মো. লিটন সরকারের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক বৃন্দের পরিচিতিসহ মতবিনিময় ও আইনশৃৃংঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় ইউএনও বলেন, সকলের সহযোগিতায় সকল কাজ সমাধান করতে চাই। সাংবাদিকরা তাদের লিখনীর মাধ্যমে সমাজকে বদলিয়ে দিতে পারে। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের কাছে সকল কাজে সহযোগিতা চান।
উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজাতুল কোবরা মুক্তা বলেন, সকল দফতরের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে আমাদেরকে অবগত করুন। আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো।
উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আহাদ রাহাত বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন জরুরি। তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিক দিবর দিঘী ও যুগিরথান এলাকাকে পর্র্যটন করা হলে এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
জেলা আ’লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বলেন, বর্র্তমান সকারের শুদ্ধি অভিযানকে তিনি স্বাগত জানিয়ে এ অভিযানের আমরা প্রত্যেকেই একজন সৈনিক হই। তাহলে বঙ্গন্ধুর স্বপ্নের খাঁটি সোনার বাংলা গড়তে পারবো। তিনি আরো বলেন, কৃষি দেশ হিসেবে বর্তমান কৃষকেরা ন্যায্য মূূল্য হতে বঞ্চিত ও নানা হয়রানি এবং অসহায়। তিনি আরো আক্ষেপ করে জানান, আমাদের উপজেলায় সরকারি হাসপাতালের প্রকৃত সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেকেই প্রাইভেট ও বেসরকাকরি ক্লিনিকে যাচ্ছেন। এজন্য উপজেলা হাসসপাতালের নানা অনিয়ম তদন্তে তদারকি জরুরি বলে মতপোষণে দাবি করেন।
জেলা পরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার মধ্যে এক সময় দ্বিতীয় পর্যায়ে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রিড়ায় পত্নীতলা উপজেলায় স্থান থাকলেও বর্র্তমানে পিছিয়ে গেছে। এ জন্য তিনি শিক্ষক নেতাদের নানা অজুহাতে উপজেলা আসেন ও কাøস ফাঁকি দেন বলে মনে করেন। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। তিনি আরো বলেন, খাদ্য ভেজাল ও সঠিক ওজন বিষয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরি।
উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী তারা বলেন, বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের নামধারীরা জড়িত। সুশিক্ষিতরা এমন কাজ কখনোই করতে পারে না।
পত্্নীতলা থানা ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমি দেশের ১৬ টি স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেছি। তার মধ্যে পত্্নীতলা থানার মানুষ নিসন্দহে সহজ, সরল ও শান্তিপ্রিয় প্রকৃতির। এ থানায় বর্র্তমানে ৮০% মাদক নিয়ন্ত্রণে আছে। মাদক জিরো টলারেনন্স আনতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
্উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আজিজার রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের বাড়ি চিহ্নিত করে দরজায় ‘মাদক ব্যবসায়ী’ লিখতে হবে। মাদক, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি প্রতিরোধে কুফল সম্পর্কে শুক্রবার জুুম্মার খুৎবাতে ইমামদের আলোচনা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা উত্তোলন করলেও দেখার কেউ নেই। বর্তমানে দাদন ব্যসায়ীদের চাপে ভুক্তভোগীরা দিশেহারা।
নির্মইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুুর রহমান বলেন, বরেন্দ্র্র এলাকা হিসেবে তার এলাকায় বিশুদ্ধ সুপেয় পানির অভাব। ব্যক্তি উদ্যোগে সবার পক্ষে সাবমারজিবল মোটর বসানো সম্ভব নয়। এজন্য তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে মতামত দেন, নজিপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা পূুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌতম দে, সাংসস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সরকারি ব্যাংকার আবু হেনা মোস্তফা কামাল, পত্নীতলা প্রেসকøাবের সহসভাপতি সাংবাদিক ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ