পত্নীতলায় বিএমডিএ-এর শস্য বহুমুখীকরণ ভাগ্যে খুলে দিয়েছে চাষিদের

আপডেট: January 21, 2020, 12:37 am

পত্নীতলা প্রতিনিধি


শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকার চাষিদের ভাগ্যে পরিবর্তন করেছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি ও ভূ-উপরিস্থ পানি দিয়ে বছরব্যাপী সেচ সুবিধা চালু আছে। এ অঞ্চলের এক ফসলি জমি এখন তিন ফসলি ক্ষেত্র বিশেষে চার ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে ফসল উৎপাদনও অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলে আউশ, আমন ও বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদিত হচ্ছে। তন্মেধ্যে আউশ ও আমন ধান উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানি বা বৃষ্টির পানি বেশি ব্যবহৃত হয়। ভূ-গর্ভস্থ পানি খুব কম ব্যবহৃত হয়। তবে বোরো ধান উৎপাদনে প্রচুর ভূ-গর্ভস্থ পানির প্রয়োজন হয়।
জানা যায়, ১৯৮৫-৮৬ সালে নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর সর্বোচ্চ ২র্৭-১র্০র্ ফুট নিচে ছিল। তবে বর্তমানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর সর্বোচ্চ ৪র্৩-র্২র্ নিচে অবস্থান করছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে যাওয়ার কারণ হচ্ছে- বৃষ্টিপাত অতীতের তুলনায় কমে যাওয়া, ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বহুলাংশে হ্রাস পাওয়া ও বোরো মৌসুমে ধানের জন্য ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন। তাই বোরো সেচ কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমানোর জন্য বোরো ধানের পরিবর্তে শস্য বহুমুখীকরণ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিএমডিএ অফিস সূত্রে জানা যায়, যে সব এলাকায় বোরো ধান চাষ হয় সে সব এলাকার কৃষকদেরকে সেচ কাজে Allernate Wetting and Drying (অডউ/এডব্লিউডি) পদ্ধতিতে সেচ প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রায় ৪০% পানি সাশ্রয় হয়। ভূ-গর্ভস্থ পানির মজুদ বিবেচনা করে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শস্য বহুমুখীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের চাষি মিজানুর রহমান বলেন, গত বছরে বরেন্দ্র অফিস সরবরাহকৃত বারি ২৬ গম এবং বারি ১৪ ও ১৫ সরিষা চাষ করে বেশ উপকৃত হয়েছি। তিনি আরো বলেন, প্রতি হেক্টরে গমের ফলন ৪.৯০ টন এবং সরিষার ফলন হেক্টর প্রতি ৩.১৫ টন হয়েছে। যাতে নীট আয় ধানের চেয়ে ২-৩ হাজার টাকা বেশি এবং উৎপাদন খরচও অনেক কম। ফলে বোরো ধানের চাষ হ্রাস ও অন্যান্য ফসল ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার শাশইল গ্রামের চাষি বকুল কবির, বহবলপুর গ্রামের চাষি আব্দুল্লাহেল কাফি, তকিপুর গ্রামের চাষি সুলতান মাহমুদসহ অনেকেই জানান, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আওয়তায় গভীর নলকূপর কমান্ড এরিয়ায় এডব্লিউডি পদ্ধতিতে ধান চাষ করে ফলন বেশি পাচ্ছেন ও পাশাপাশি সেচ খরচও তুলনামূলক কম হচ্ছে।
তারা আরো জানান, চলতি বোরো মৌসুমে তারা পুরো স্কীমে অডউ/ এডব্লিউডি পদ্ধতিতে ধান চাষ করছেন।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ১৯ হাজার ৮শ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) এর নওগাঁ-২, রিজিয়ন পত্নীতলা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল মালেক চৌধুরী জানান, শস্য বহুমুখী করণের লক্ষ্যে সেচের পানি কম ব্যবহার করে অধিক লাভজনক ফসল যেমন, গম, আলু, সরিষা ও ডাল জাতীয় শস্য চাষের জন্য প্রতি বছর চাষিদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধ করণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধ করণ কর্মসূিচ নিয়ে চাষিদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকেরাও বোরো ধানের চাষ কমিয়ে দিয়ে সেখানে গম, আলু, সরিষা ও অন্যান্য শস্যের চাষ শুরু করেছে। যা উপজেলার দিবর, আকবরপুর, মাটিন্দর, নির্মইল ও শিহাড়া ইউনিয়ন গুলোতে তুলনামূলক বেশি দেখা যায় চাষ করতে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) এর নওগাঁ-২, রিজিয়ন পত্নীতলা জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইন্তেখাফ আলম জানান, উপজেলায় মোট ৪শ ৩৯ টি গভীর নলকূপ আছে। এর মধ্যে চলতি বোরো মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩শ ৮২ টি গভীর নলকূপ চালু রয়েছে। লো লিপ পাম্প (এলএলপি) ১৭ টির মধ্যে সব ৪টি চালু রয়েছে। যা নদীর পানি থেকে চাষাবাদে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া এলআইপি (সোলার চালিত) মোট ২২ টির মধ্যে বর্তমানে ১৫টি চালু রয়েছে।