পদ্মার বিবর্তন নিয়ে ‘পদ্মাপুরাণ’

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পদ্মানদীর তীরে যে শহরগুলো অবস্থিত তার মধ্যে রাজশাহী সবচেয়ে বড়। একটা সময় পদ্মার যে ভরা যৌবন ছিল সময়ের পরিক্রমায় এখন অনেকটাই বিলীন হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে হারিয়েছে তার রূপ ও রং। পাশাপাশি বদলে গেছে দুই পাড়ের মানুষের জীবন রীতিও। পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবন রীতি বদলে যাওয়ার সেইসব গল্পই ছবির পর ছবি সাজিয়ে সেলুলয়েডে বুনতে শুরু করেছেন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা রাশিদ পলাশ। আর তার নাম দিয়েছেন ‘পদ্মাপুরাণ’।
এ বিষয়ে রাশিদ পলাশ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘নদীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তো অনেক বন্দরই গড়ে উঠেছে। আর সেসব নদীতে একটা সময় বড় বড় জাহাজ চলত। কিন্তু সে বিষয়গুলো এখন একেকটা মিথে পরিণত হয়েছে। আজ ৫০ বছর পরে এখন যে নদীগুলো আছে তার মধ্যে কিছু কিছু নদী মিথ হয়ে যাবে। পদ্মা যে আসলে মিথ হয়ে গেছে, এটা আমাদের স্ট্যাবিলিশের জায়গা ছিল। আর আমরা সে সময়টা ধরেছি ১৯৬০ সাল থেকে।
আমরা যে গ্রামটার কথা বলছি তার নাম জাহাজ ঘাট। কিন্তু এখন সে জায়গাটাতে ফেনসিডিলের ব্যবসা হয়। কিন্তু এ জায়গাটাতে একটা সময় শুধু মাছের ব্যবসা হত। এখানে মানুষজনের চেনা শব্দ ছিল মাছ, জাল, নৌকা। এখন সেখানে শব্দগুলো চেঞ্জ হয়ে ফেনসিডিল, পুলিশ, ড্রাগস আর্মস এ শব্দগুলো স্থান পাচ্ছে। শুধু নদীটা মরে যাওয়ার কারণেই এমনা হচ্ছে। মানুষের যে সহজ, সরল জীবনধারা ছিল সেটার আমূল পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।’
নির্মাতা জানান সিনেমাটিতে বড় একটা চমক রয়েছে। এরপর বলেন, ‘আমার সিনেমার হিরো এখনো কাস্ট হয়নি। তবে তাকে কী বাংলাদেশ থেকে নেওয়া হবে নাকি কলকাতা থেকে নেওয়া হবে সেটা নির্ধারণ করা হবে খুব শিগগিরই। এরপরই ঘোষণা দিয়ে জানানো হবে।’
সিনেমাতে এমন কী আছে, যেটা দেখে দর্শক সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবে? উত্তরে নির্মাতা বলেন, ‘আমার মনে হয় এই মুহূর্তে এখন আর বাংলাদেশের মানুষ নায়ক-নায়িকা দেখে সিনেমা হলে যায় না। শুধু শাকিব খানের সিনেমা ব্যতীত। এরা যায় গল্প আর মানুষের মুখে সিনেমার কথা শুনে। তবে আমাদের সিনেমাটা অতো বড় বাজেটের না।
বাংলাদেশের মানুষ সিনেমাতে যে ধরনের গল্প দেখে অভ্যস্ত, এবার আমরা সে ধারাটা ভেঙে ফেলেছি। অন্য ধারায় গল্প বলার চেষ্টা করতেছি। আমাদের সিনেমাতে যেহেতু বাণিজ্যিক স্টার কাস্ট নেই, আমাদের মূল ভরসার জায়গাটা হলো গল্প। এটা এর আগে হয় নাই, এটা বাজি ধরে বলতে পারি।’
রায়হান শশী চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন। ইতোমধ্যে রাজশাহীর পদ্মার তীরে এর ৫০শতাংশ চিত্রধারণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাতা জানান, ঈদুল ফিতরের পর চলচ্চিত্রটির বাকি অংশ শুটিং শেষ করতে চান তিনি। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করছেন চম্পা ও শম্পা রেজা।
চিত্রনায়িকা চম্পা অভিনয় করছেন মাদক বিক্রেতার চরিত্রে, অন্যদিকে টিভি অভিনেত্রী শম্পা রেজাকে দেখা যাবে শিখ-ী (তৃতীয় লিঙ্গ) সম্প্রদায়ের প্রধানের চরিত্রে। এ ছাড়াও কায়েস চৌধুরী শিমুল খান অভিনয় করেছেন। ছবির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘কবর’-এর অভিনেত্রী সাদিয়া মাহি। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে পূণ্য ফিল্মস। নির্মাতা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ হলে এ বছরের শেষ নাগাদ সিনেমাটি মুক্তি পাবে।