পদ্মা পাড়ে জাতীয় ক্রিকেটার সাব্বির-নয়নের ফুটবল বিশ্বকাপের আড্ডা

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৮, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক


কাল বুধবার ইফতারের আগ মুহূর্তে নগরীর আলুপট্টি সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে চেয়ারে বসে গোল করে স্থানীয় বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই খেলোয়াড় সাব্বির রহমান রুম্মান ও সানজামুল ইসলাম নয়ন। কাছে গিয়ে কৌশল বিনিময়ে জানা গেলো আড্ডার মূল বিষয় ক্রিকেট নয়,‘ফুটবল বিশ্বকাপ’।
আজ বৃহস্পতিবার থেকে রাশিয়ায় শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। আর এই আসরকে ঘিরে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চলছে ব্যাপক উন্মাদনা। আর এই উদ্মাদনায় পিছিয়ে নেই ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড় সাব্বির রহমান। তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে ঈদ করতে ঢাকা থেকে নাড়ীর টানে ফিরেই প্রিয় পদ্মা পাড়ে ছুটে এসেছেন। তার ডাকেই এসেছেন আরেক জাতীয় ক্রিকেটার সানজামুল ইসলাম নয়ন, মোক্তার আলী, বিভাগীয় দলের ক্রিকেটার তনু, সৌরভ, রুবেলসহ স্থানীয় বন্ধুরা। বিশ্বকাপের আমেজে বৃহস্পতিবার বিকালে শহীদ কামারুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি পরে দুই ভাগে ফুটবল ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা চলছিল আড্ডায়। কারণ রাজশাহীর আরেক ছেলে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট ব্রাজিলের সমর্থক। সেও ঈদ করতে আসবেন রাজশাহীতে। তাই তাকে নিয়ে অন্য ক্রিকেটার বন্ধুদের নিয়ে বিশ্বকাপ উন্মদনায় মেতে উঠতে চান সাব্বির-সানজামুলরা।
বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপে নেই। অথচ উন্মাদনার শেষ নেই ফুটবলপ্রেমীদের। বাড়ির ছাদে থেকে শুরু করে আনাচে-কানাচে ভিনদেশি পতাকা উড়ছে। এসব বিষয়ে সাব্বির রহমান বলেন, আমাদের দেশ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলে। তখন ভিন দেশি পতাকা উড়ে না। কারণ নিজের দেশ খেলছে। আর ফুটবলে বাংলাদেশ নেই। তাই বিশ্বকাপের মজাটা উপভোগ করার জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, জার্মানিসহ প্রিয় দলকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে আমাদের দেশও একদিন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে। এমনকি খেলা উচিত। তবে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার মতো অবস্থান আমাদের এখনও তৈরি হয়নি। তাই বিশ্বকাপে খেলার জন্য আমাদের দেশে পেশাদার লিগসহ বিভিন্ন ফুটবলের জমজমাট আসর আয়োজন করতে হবে। সে সব আসরে ভালো মানের ফুটবল খেলোয়াড়কে বাছাই করতে হবে। এরপর প্রতিবেশি দেশ ভারতের কলকাতা লিগ, ইউরোপের জনপ্রিয় ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। যাতে করে সেসব লিগের খেলোয়াড়দের সাথে মিশে অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও উচুমানের খেলোয়াড়ে নিজেকে পরিণত করতে পারে। আমার জানা মতে, আমাদের দেশে অনেক ভালো মানের ফুটবল খেলোয়াড় রয়েছে। এক সময় আমরাও ক্রিকেটের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবো।
সাব্বির রহমান আরও বলেন, আমি তো ব্রাজিল সাপোর্টার। আমার বাড়িতে একটা প্লে স্টেশন ফোর আছে। ব্রাজিল নিয়ে খেলি। এবং আজেন্টিনাকে হারায়। ব্রাজিল বিশ্বকাপে কি করবে জানি না। তবে তাদের জন্য শুভ কামনা থাকবে। যাতে করে তারা ভালো কিছু করতে পারে। বিশ্বকাপটা যেন নিয়ে যেতে পারে। আমার যে ফ্যান-ফ্যালোয়ার আছে। তাদেরকে বললো যেন আমার জন্য ব্রাজিল সার্পোটার হয়ে বিশ্বকাপটা উপভোগ করে।
কিভাবে ব্রাজিল দলকে বেছে নিলেন। এমন প্রশ্নে সাব্বির রহমান বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে ব্রাজিল সার্পোটার ছিলাম। কারণ আমার একটা মামাতো ভাই শুধু ব্রাজিল ব্রাজিল বলে মুখের ফ্যানা তুলে দিতো। তার দেখে ব্রাজিল হয়ে গেলাম। পরে রোনাল্ডোর খেলা দেখে ফ্যান হয়ে গেলাম। এছাড়া রিভারদো, রোনালদিনহো, রাবার্তো কার্লাসের খেলা খুব ভালো লাগতো। তাদের ছন্দ নিয়ে আমরা অন্যের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে যেতাম। এখনও দলে অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় আছে। আশাকরি আমাদের মতো ব্রাজিল সমর্থকদেরকে তারা হতাশ করবে না।
আরেক জাতীয় ক্রিকেটার সানজামুল ইসলাম নয়ন বলেন, ২০০২ বিশ্বকাপ খেলা দেখতাম। তখন রোনাল্ডো, রোনালদিনহোর খেলা ভালো লাগতো। তখন থেকেই ব্রাজিলকে সার্পোট করতাম। আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে ফরহাদ ভাই সহ অনেক ক্রিকেটার আছে। যারা আর্জেন্টিনার সার্পোটার। তাদের সাথে আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলা ও খেলোয়াড় নিয়ে অনেক সময় তর্ক-বিতর্কে আড্ডা জমিয়ে তুলি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশও একদিন বিশ্বকাপে খেলবে। তখন ক্রিকেটের মতো অন্য দেশকে আমাদের বাঙালিরা সার্পোট করবে না। এজন্য ক্রিকেটের মতো ফুটবলকেও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। তবে ফুটবল নিয়ে সবাই খুব মজা পায়। এজন্য উদ্মাদনাটা একটু বেশি থাকে বিশ্বকাপের সময়।