পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব রটনা তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমেই ধোঁয়াশা দূর করতে হবে

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের কাটা মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে একজন ইউপি সদস্যকে কারণ দর্শানো হয়েছে এবং এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। স্বয়ং প্রশানমন্ত্রী গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে নেহাতই গুজব বলে তাতে কর্ণপাত না তরার জন্য আহবান জানিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ ও ৭টা ৫১ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা লাগবে’ ও ‘গুজব নয় সত্যি, রক্ত চায় পদ্মা সেতু! ঘর ছাড়া শতাধিক পরিবার’ শিরোনামে দুটি ছবি পোস্ট করে গুজব ছড়িয়েছেন ইউপি সদস্য আলমগীর।
গ্রামে-গঞ্জে এখনো মানুষের মধ্যে এ কুসংস্কার আছে যে, বড় কোনো স্থাপনার জন্য মানুষের মাথা উৎসর্গ করতে হয়। এই কুসংস্কার শুধু যে নিরক্ষর মানুষের মধ্যে থাকে তা নয়Ñ অনেক প্রতিক্রিয়াশীল লেখাপড়া জানা মানুষকেও এ ব্যাপারে কৌতুহল প্রকাশ করতে দেখা যায়। শত বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণকালেও এমন গুজব ব্যাপকভাবে গ্রামে-গঞ্জে আতঙ্ক ছড়ায়। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগেও এ ধরনের কুসংস্কার বা গুজব ছড়ানো সম্ভব? এর সোজাসাপটা উত্তর হলো- সম্ভব হচ্ছে বলেই সেটা ছাড়ান হচ্ছে। কিছু মানুষের অজ্ঞতা তো আছেইÑ কিন্তু যারা সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে এটাকে তাদের অজ্ঞতা বলা যাবে না। এই কারণে যে, এটা নেহাতই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জেনে-শুনেই তারা গুজব ছড়াচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলও হতে পারে। কেননা পদ্মা সেতু নিয়ে দেশে বিদেশে কম রাজনীতি হয় নি। দেশের মানুষকে অহেতুক ভীতির মধ্যে ফেলে একটা বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্য হতে পারে এটি। পদ্মা সেতু নিয়ে বিতর্কটা শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল। ইতোমধ্যে এই সেতুর কাজ ৮০ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে। পদ্ম সেতু এখন শুধুই বাস্তবতা। এরকম একটি মেঘা প্রকল্প যা কিনা একেবারে নিজস্ব অর্থায়নের নির্মিত হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটা বর্তমান সরকারের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জই ছিল। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা মোটেও সহজ ছিল না। পদ্মা সেতু তৈরিতে দেশের অভ্যন্তরে স্বার্থান্বেষী মহল বিষয়টি ভালভাবে নেয় নি, তেমনি বিশ্ব ব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোরও ন্যক্করজনক বিরোধিতা ছিল। মোটা দাগে বললে পদ্মা সেতু নিয়ে দেশে ও বিদেশে কুৎসিত রাজনীতি হয়েছে। সেতুর নির্মাণ কাজ যখন শেষের দিকে তখনই এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।
তবে এটা নিয়ে ‘পানি ঘোলা’ করার কোনো সুযোগ নেই। বরং অবাধ তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যেকার ধোঁয়াশা দূর করা সম্ভব। আর যারা গুজব সৃষ্টির মূল কারিগর তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ