পবায় উপজেলা নির্বাচনে মাঠে আওয়ামীলীগের ৬ প্রার্থীর দৌড়ঝাপ শুরু

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম


সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ না কাটতেই উপজেলা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে তৎপর হয়ে উঠেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশিরা। আগামী মার্চে সারাদেশে ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। আর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ভোটের হাওয়া জোরেশোরেই বইতে শুরু করেছে। ভোটাররাও কে কে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন তা জানতে গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের স্টলে স্টলে খবর নিচ্ছেনÑ পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমে চোখ রাখছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের জানান দিচ্ছেন তাদের প্রার্থিতা। পাশাপাশি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শুরু করেছেন লবিং গ্রুপিং। বিশেষ করে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের প্রার্থীরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে চলেছেন। আর বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা এখনো নিরব রয়েছেন। অনেকে ধরপাকড়ের ভয়ে এখনো গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। তবে উপজেলা পরিষদের ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে পাড়া-মহল্লায়, গ্রামে গ্রামে চায়ের দোকানে ।
রাজশাহী নগরীকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পবা উপজেলা। তবে ভোটের উৎসবে কখনোই পিছিয়ে নেই এই এলাকার লোকজন। নগরীর পাশে হওয়ায় উপজেলা পরিষদের ভোটের হাওয়া আগেই লেগেছে। বিশেষ করে নৌকা প্রতিক চাইবেন আওয়ামী লীগের এমন প্রায় হাফ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। পাশাপাশি কয়েকদিন থেকে অনেকে নির্বাচনী এলাকায় কুশল বিনিময়, নিজ নিজ কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। অনেকে আবার নববর্ষের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হতে দোয়া চেয়েছেন।
সর্বশেষ ২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলের সমর্থন নিতে হয়েছে প্রার্থীদের। পবায় আওয়ামীগের প্রার্থী ছিলেন মনসুর রহমান। এই উপজেলায় বিজয়ী হন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মকবুল হোসাইন। ২০১৬ সালে তার অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের ঘোষণা দেন একই সালের ৮ ডিসেম্বর। কিন্তু উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে ৫ ডিসেম্বর ভোট স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকে জামায়াত সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান বেগম খায়রুন্নেসা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান না থাকায় এবারে প্রায় সবই নতুন মুখ নৌকা প্রতিক চাইবেন বলে জানা গেছে। অনেকে নিজ নিজ সংগঠনকে কাজে লাগাতে মতবিনিময় সভা শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশির হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মনসুর রহমান, জেলা দফতর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু, পবা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক এমদাদ, হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল ও পবা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এসএম আয়নাল হক।
এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী, মেয়াদ পূর্তির আগের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতিকে যারা নির্বাচন করতে চান তাদের দলের মনোনয়ন নিতে হবে। মনোনয়নপত্রে সঙ্গে জমা দিতে হবে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যায়ণপত্র। ফলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে মনোনয়নের লড়াই করতে হবে প্রার্থীদের । তবে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধের কারণে কপাল পুড়তে পারে অনেকের।