পবায় দেড় হাজার গাছ ১২ লাখে বিক্রি, নিলামের কথা কেউ জানেনা

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

শরিফুল ইসলাম


রাজশাহীর পবা উপজেলার বারনই নদীর তীরবর্তী বাঁধের উপর ১ হাজার ৫৩০টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে ১২ লাখ টাকায়। এ হিসাবে ১০০ গাছের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকারও কম। সরকারি এসব গাছ বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক কোনো দরপত্র ছাড়াই গোপনে টেন্ডার দেখিয়ে এসব গাছ বিক্রি করা হয়েছে। ফলে গাছগুলো অনেকটা পানির দরে কিনে নিয়েছেন দুই ঠিকাদার। স্থানীয়রা বলেন, রাজশাহী বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে কম দামে পরিণত ও মোটা এসব গাছ বিক্রি করা হয়েছে। কম দামে গাছ বিক্রির অভিযোগ করে স্থানীয়রা আরও বলেছেন, এসব মূল্যবান গাছের একেকটির দামই হবে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। নিলামে দেয়া এসব গাছের মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৭৫০ টাকা করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পবা উপজেলার বারনই নদীর পশ্চিম পাড়ে তেঘর এলাকায় ২০০৪ সালে উপকারভোগী ও বন বিভাগের উদ্যোগে নিবিড় বৃক্ষরোপণ করা হয়। বাঁধের উপর রোপিত মেহগনি, শিশু, নিম, রেইন্ট্রি, কড়ই, বট ও অর্জুন গাছগুলো গত কয়েক বছরেই বেশ মোটা ও বড় হয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী বন বিভাগের উদ্যোগে নিলামে বিক্রির জন্য ১ হাজার ৫৩০টি গাছ চিহ্নিত করা হয়। তবে প্রকাশ্যে নোটিশ জারি করে নিলাম করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। গোপনে নিলাম দেখিয়ে চারটি লট বিক্রি করা হয় দু’জন ঠিকাদারের কাছে। প্রতিটি লটে রয়েছে ৩১৫টি করে গাছ। একেকটি লটের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনটি লট দেয়া হয়েছে নওগাঁর ঠিকাদার ওয়াজ মোহাম্মদকে। বাকি একটি লট বিক্রি করা হয়েছে রাজশাহীর ঠিকাদার হায়দার আলীর কাছে।
এদিকে নিলামের পর গত সপ্তাহে শ্রমিক দিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু করেন দুই ঠিকাদার। শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে করাত ও কুড়াল দিয়ে গাছ কাটছেন। গাছ কাটা শ্রমিকদের সর্দার মোল্লা শফিকুল ইসলাম জানান, গাছগুলো সবই জীবিত। মরা গাছ নেই বললেই চলে। এসব গাছের কাঠ হবে। সেগুলো গুঁড়ি করে কেটে মিলে নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গাছের ডালপালাগুলো ১৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গাছগুলো কাটা শেষ হবে বলে জানান তিনি।
গাছের গুঁড়ি তুলছেন মাটি খুঁড়ে কুড়াল ও কোদাল দিয়ে। গাছের গুঁড়িগুলোও বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকা মণ দরে। এদিকে স্থানীয়রা আরও জানান, ২০০৪ সালে উপকারভোগী সমিতির সভাপতি আবু তালেবকে প্রধান করে বাঁধের উপর এসব মূল্যবান গাছ রোপণ করা হয়। গাছগুলো ২২ জন উপকারভোগী মিলে দেখভাল করেছেন গত ১৬ বছর ধরে। বিক্রিত অর্থের ৫৫ শতাংশ উপকারভোগীরা পাবেন। বাকিটা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। আবু তালেব আরও জানান, গাছগুলো আরও বেশি দামে বিক্রি হবে বলে তারা আশা করছিলেন। এতে তারা বেশি টাকা পেতেন। গোপন নিলামে গাছ বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজশাহী বন বিভাগের কর্মকর্তা মনসুর রহমান দাবি করেন, গাছগুলো নিলামের সঙ্গে উপকারভোগীরাও জড়িত। মার্কিং করে গাছগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত জ্বালানি কাঠ উৎপাদনের জন্যই এ বন সৃজন করা হয়েছিল। ফলে মূল্য নির্ধারণও সেই অনুপাতেই করা হয়েছে। বিধি মেনেই নিলাম করা হয়েছে। তবে প্রকাশ্যে নোটিশ জারি করে নিলাম না করার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোনার দেশকে বলেন এসব গাছ বিক্রিতে কোন অনিয়ম করা হয়নি নিয়ম মেনে নিলাম করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ