পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই || পাস যে ত্রুটি বাঞ্ছনীয় নয়

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০১৮, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সদ্য বিদায়ি বছর জুড়ে জনমনে তিব্র প্রতিক্রিয়া ছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। ৩০ জুন ২০১৭ একই দিন পাথমিক শিক্ষা সমাপনী, ইবতেদাযী এবং জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রক ও শিক্ষা বিভাগ মোটামুটি স্বস্তি অনুভব করছিলো- কিন্তু সে স্বস্তি তিন দিনও স্থিতি লাভ করেনি। আবার নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুয়ায়ী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা না দিয়েই চার শিক্ষার্থী পাস করেছে। বুধবার এ ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সারা দেশে একযোগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৭-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেতিয়ারা, মুন্সিরহাট ও পদুয়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই পাস করে। এতে হতবাক হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে হতবাক হন চার শিক্ষার্থীর বাবা-মাসহ স্থানীয়রা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজশাহীতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিনামূল্যে বিতরণ বইয়ে বাঁধাই সমস্যা, একই পৃষ্ঠা বার বার হওয়া, পৃষ্ঠা বাদ পড়া, ছাপার সমস্যাসহ নানা মুদ্রণজনিত ত্রুটি পাওয়া গেছে। মুদ্রণজনিত ত্রুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফেরত দিচ্ছে বইউৎসব থেকে নেয়া বই। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, অভিভাবকরাও। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, দুই একজনের বইয়ে এরকম মুদ্রণজনিত ত্রুটি থাকতে পারে। সেেেক্ষত্রে বিদ্যালয় প্রধানের কাছে গেলে বই পরিবর্তন করে দিবেন। দৈনিক সোনার দেশে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লিখিত দুটি ঘটনাই ত্রুটিজনিত। তবে এ ত্রুটির পরিধি বেশ বড়, হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। শিশুদের জন্য আমরা যা কিছুই নিবেদন করি না কেন তা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়- তা বিবেচনায় থাকতে হবে। এমন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। শুধু ‘ভুল’ বলেই অনেক ভুল পাস কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রেও তাই। শিক্ষার্থী নতুন বইয়ের গন্ধ শুকে বুকের মধ্যে স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরে বই খুলে যখন পরতে পরতে অমিল দেখবে- তার ভাবান্তরের কষ্টবোধ কিংবা আশাহতের বিষয়টি মোটেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই যদি কোনো শিক্ষার্থী পাস করে যায় সেটাও হবে মারাত্মক শিক্ষা বিনাশী ঘটনা। পরীক্ষা নিয়ে জনমনের ধারণাতেই সেটি আঘাত করে। শিক্ষার মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন ত্রুটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
ঘটনা দুটি তদন্ত করে সঠিক কারণ চিহ্নিত করে পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে নাÑ তা নিশ্চিত করতে হবে। এবং এর সাথে যে বা যাদেরই উদাসীনতা বা অবহেলা থাকুক না কেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ