পর্যাপ্ত আমদানির পরেও বেড়েছে আমের দাম

আপডেট: জুন ১১, ২০১৯, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


ঈদের পরে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বানেশ্বর বাজারে উঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির আম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে-সোনার দেশ

জমজমাট এখন রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বানেশ্বর। ঈদের পরে এখন তিনগুন বেশি আম নিয়ে হাটে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পর্যাপ্ত আমদানি থাকলেও সকল আম মণ প্রতি দাম বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। হাটের ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো রোজায় আমের চাহিদা একটু কম থাকলেও এখন প্রচুর পাইকার ও খুচরা ক্রেতার সমাগমে আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে আম। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আম ক্রয় করতে আসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন প্রায় ৫০ ট্রাক আম এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে।
গত ১৮ রমজানে হাটে শুধু কাঁচারি মাঠেই দেখা গিয়েছিলো ভ্যান ও নসিমন নিয়ে আম বিক্রি করতে। কিন্ত গতকাল সোমবার কাচারি মাঠ ছেড়ে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের দীর্ঘ সড়ক জুড়ে আমের গাড়ি। এদিকে গত সপ্তাহ থেকে হাটে উঠেছে নতুন ল্যাংড়া জাতের আম। বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৯০০ টাকায়. হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকায়, লখনা ও গুঠি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকায়।
ব্যবসায়ী আরো জানান,‘আগামী সপ্তাহ থেকে সব আমের দাম আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে। এরপর আমের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। কারণ এবার ঝড়ের কারণে প্রচুর পরিমাণে আম ঝরে পড়েছে।
আম ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ জানান, ‘রমজানের পর সব ধরনের আম মণপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর আমের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই। এই সপ্তাহের পর দাম আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে’।
হাটের পাইকারী ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন জানান, ‘পুরো রোজায় হাটের এই মাঠে আমের গাড়ি থাকতো। কিন্তু ঈদের পরে মাঠ ছেড়ে মহাসড়কের অর্দ্ধেক রাস্তা পর্যন্ত গাড়ি ঊঠেছে। এখন অনেক বাইরের ব্যবসায়ী এসে আম নিয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ ট্রাক আম যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
ক্রেতা জুয়েল আহমেদ জানান,‘ রোজার সময় যে সব আম নিয়েছিলাম এখন সেই আমের দাম অনেক বেশি। ঈদের পরেই আমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হাটে প্রচুর পরিমাণে আম এসেছে।
ঢাকায় আম নিয়ে যাওয়ার জন্য হাটে এসেছে শামসুজ্জোহা পিন্টু। তিনি জানান,‘ রোজার সময় এক ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় কয়েক মণ আম নিয়েছিলাম। পরিবারসহ কলিগদের জন্য এখন কয়েক মণ আম নিতে হবে। তবে রোজার সময় যে দামে আম নিয়েছিলাম এখন দাম তার চেয়ে অনেক বেশি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ